Lakshmir Bhandar: বিজেপির পঞ্চায়েত, সেখানেই ‘বন্ধ’ লক্ষ্মীর ভান্ডার, রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট – Bengali News | Calcutta High Court Seeks Report on Alleged Five Month Delay in Lakshmir Bhandar Payments to 7,000 Women in East Midnapore
প্রতীকী ছবি Image Credit: সংগৃহিত (Social Media)
কলকাতা: মিলছে না লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা। সরকারি প্রকল্প থেকে ‘বঞ্চিত’ পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার প্রায় সাত হাজার মহিলা। এক মাস বা দু’মাস নয়! একেবারে পাঁচ মাস। আর সেই অভিযোগের জল এবার গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। সম্প্রতি এই মর্মে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। যার শুনানি ছিল আজ, বৃহস্পতিবার। শুনানি পর্বেই দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে কাছে এই অভিযোগ ঘিরে রিপোর্ট তলব করল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি, মামলার কারণে যেন টাকা বন্ধ না-থাকে, সেই নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
এদিন শুনানিতে উপস্থিত মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য এজলাসে বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ময়না বিধানসভার অন্তর্গত বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বন্ধ হয়েছে।’ প্রকল্প অনুযায়ী, রাজ্য তফসিলি জাতি-উপজাতি শ্রেণির মহিলাদের ১২০০ টাকা মাসিক ভাতা দিয়ে থাকে। অন্যান্যরা পান ১ হাজার টাকা। কিন্তু মামলাকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এক টাকাও পাননি। এজলাসে তাঁদের পক্ষে সওয়ালকারী জানান, ‘ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ভাতা প্রতি মাসে উপভোক্তার কাছে পৌঁছে যায়। সবাই পেয়েছে। শুধু এই গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলারা পাচ্ছেন না।’
এই বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে রাজ্য সরকার যে অবগত, তা এজলাসে জানিয়েছেন সরকার পক্ষের আইনজীবী অমল সেন। এদিন তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর এই টাকা দিয়ে থাকে। সেখানে কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে, অনুসন্ধানও শুরু হয়েছে। আদালতেও রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। কিন্তু একটু সময় প্রয়োজন।’ এরপরেই আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাইকোর্টে লক্ষ্মীর ভান্ডার বঞ্চনা সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তবে এই মামলার জন্য কোনও ভাবেই প্রকল্পের টাকা এখন বন্ধ রাখা চলবে না।
উল্লেখ্য, ময়নার এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ কম নয়। হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হওয়ার আগে একাধিকবার জেলাশাসক দফতরের সামনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ মহিলারা। চলছে প্রতিবাদও। একাংশের দাবি, গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে, তাই টাকা দেওয়া হচ্ছে না। খোদ ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা বলেছিলেন, ‘ছয় মাস ধরে গ্রামের পঞ্চায়েত বিজেপি জিতেছে। সেই গ্রামেই লক্ষ্মীর ভান্ডার ঢুকছে না।’ তবে পাল্টা শাসক শিবির এই ঘটনা থেকে রাজনীতিকে শতহস্ত দূরে রাখতেই জোর দিয়েছে।