Migrant Worker Murder: ইন্ডিয়া জোটের শরিক স্ট্যালিনের রাজ্য খুন বাংলার পরিযায়ী, দানা বাঁধছে রহস্য – Bengali News | Another migrant worker from Bengal has been murdered in Chennai
সুতি: বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরিযায়ী হেনস্থা নিয়ে যখন ক্রমেই সুর চড়াচ্ছে তৃণমূল তখন ইন্ডিয়া জোটের শরিক স্ট্যালিনের রাজ্য খুন বাংলার পরিযায়ী। তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে কাজ করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত যুবকের নাম আমাই মাঝি (২৮)। তিনি সুতির হাড়োয়া পঞ্চায়েতের গাম্ভীরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় চেন্নাইয়ের তাম্বারাম এলাকা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, আমাই মাঝিকে সেখানে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন আগেই চেন্নাইয়ের তাম্বারাম এলাকায় একটি বহুতল নির্মাণের কাজে গিয়েছিলেন আমাই। সোমবার রাতে তাঁর সঙ্গে থাকা ওই এলাকারই অন্যান্য শ্রমিকদের কাছ থেকে মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। তবে ঠিক কী কারণে বা কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পেশায় রাজমিস্ত্রি আমাই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকা। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ মা, স্ত্রী এবং তিন নাবালক সন্তান রয়েছে। একমাত্র রোজগেরে মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনহারারা।
ইতিমধ্যেই চেন্নাইয়ে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন পরিজনেরা। দিন কয়েক আগেই ওড়িশায় কাজ করতে গিয়ে সুতি থানার চক বাহাদুরপুর গ্রামের জুয়েল রানা নামে এক যুবক খুন হয়েছিলেন। সেই ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন শোরগোল চলছে, তার মধ্যেই ফের সুতি থানা এলাকার আরেক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুর খবর আসায় আতঙ্ক তৈরি গোটা জেলায়। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক এম কে স্ট্যালিনের রাজ্যে বাংলার শ্রমিকের এই পরিণতি নিয়ে সরব হয়েছেন ইন্ডিয়া জোটের বিরোধীরা। ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যাওয়া শ্রমিকরা কেন বারবার আক্রান্ত বা মৃত হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিকেও কাঠগড়ায় তুলছেন অনেকে। বর্তমানে আমাইয়ের নিথর দেহের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছে গাম্ভীরা গ্রামের বাসিন্দা থেকে পরিবারের সদস্যরা।