Aloka The Peace Dog: শান্তির বার্তা দিতে আমেরিকায় কলকাতার ‘অলোকা’ – Bengali News | Aloka: The Indian street dog who has joined Buddhist monks on 3,700 km Walk for Peace across the U.S.
পঞ্চপান্ডব চলেছেন মহাপ্রস্থানে। পেছনে দ্রৌপদী। তাঁদের পিছু পিছু একটি সারমেয়। একে একে দ্রৌপদী ও চার পান্ডবের পতন, সারমেয়রুপী ধর্মই কেবল যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে স্বর্গের দরজা পর্যন্ত যেতে পেরেছিল। বা মনে করুন লাইকার কথা। মস্কোর রাস্তা থেকে উঠে আসা লাইকা পৃথিবী ছেড়ে প্রথম মহাকাশে গিয়েছিল। মহাভারতের সেই সারমেয়টি বা লাইকার মতো আর এক সারমেয় বিশ্বের মন জয় করেছে। তবে, তার গল্পটি একটু অন্যরকম।
উনিশ জন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হাঁটছেন যুক্তরাষ্ট্রের পথে। গন্তব্য ওয়াশিংটন ডিসি। তাঁদের সঙ্গে হাঁটছে অলোকা। এক ভারতীয় কুকুর। কেন হাঁটছেন সন্ন্যাসীরা? অলোকাই বা কেন তাঁদের সঙ্গে?

জানা গিয়েছে, বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে পরিভ্রমণে বেড়িয়েছেন ১৯ জন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজ়রায়েলের গাজ়া দখলের চেষ্টা, বাংলাদেশে অশান্তি কিংবা ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্টকে আমেরিকার অপহরণ— বিশ্বজুড়ে যখন এত অশান্তি, সেখানে শান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৯ সাধুর এই যাত্রা। ওয়াক ফর পিস।

অলোকা কীভাবে জুড়ল?
অলোকা যখন তাঁদের সঙ্গে হাঁটা শুরু করে, তখন সে ছিল রাস্তার আর পাঁচটা চারপেয়ের মতো নামহীন। শুরুর দিকে ভারতের সারনাথ, বুদ্ধগয়া পরিভ্রমণে এসেছিলেন বৌদ্ধরা। সংবাদমাধ্যমের দাবি, অচেনা পোশাকের এত মানুষ দেখে কেবল কৌতুহলবশেই তাঁদের পিছু পিছু হাঁটা শুরু করে কলকাতার একটি কুকুর। তারপর হাঁটতে শুরু করে পাশে পাশে। একদিন গাড়ি ধাক্কা খায় কুকুরটি। সাধুদের সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠে। ব্যস! ওখানেই আমূল পাল্টে গেল চার বছর বয়সী কলকাতার রাস্তায় বড় হয়ে ওঠা, আস্তাকুঁড়ের খাবার খাওয়া কুকুরটির জীবন। সাধুরা তাঁকে সঙ্গে নেন। নাম দেয়, ‘অলোকা’। পালি ভাষায় যার অর্থ আলো।

১১২ দিনে ভারত ভ্রমণ শেষ। এবার লক্ষ্য পশ্চিম। অলোকাকে আর ছাড়তে চাইলেন না ভিক্ষুকরা। পদব্রজে আমেরিকা সফরের সঙ্গী হল সে-ও। সেদেশের আবহাওয়া আলাদা, প্রতিকুলতা বেশি। অলোকা হাঁটছে। গায়ে কখনও শাল-সোয়েটার জড়ানো, কখনও আদুর গা। গলায় বেল্ট, সেখানে লেখা ALOKA।
অক্টোবরের ২৬ তারিখ টেক্সাস থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা আমেরিকার ১০ টি প্রদেশ ঘুরে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে শেষ হওয়ার কথা। ২৩০০ মাইল হাঁটবেন তাঁরা। তাঁদের যাত্রা লাইভ ট্র্যাক করতে পারবেন আপনিও।

সারা রাস্তায় কখনও অলোকা হাঁটছে, কখনও বিশ্রাম নিচ্ছে। কখনও খেলে বেড়াচ্ছে। সমাজমাধ্যমে অলোকার ফলোয়ার্স সাড়ে তিন লাখের বেশি। সেখানে তার নানা ছবি, ভিডিয়ো পোস্ট করা হয় নিয়মিত। লাইক-কমেন্ট আসে হাজার হাজার। পথে-প্রান্তরে যেখানে মানুষ জেনেছে অলোকারা আসছে, সবাই ছুটে এসেছে। অলোকার যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তাতে সে কম চড়ে। সাধুদের সঙ্গে হেঁটে বেড়ায় বেশি। সন্ন্যাসীরা জানাচ্ছেন, তাঁকে আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম মানতে একমাস বেশি সময় লেগেছিল তাঁদের। এক ভিক্ষুকের কথায়, ‘অলোকার কপালে একটা সাদা চিহ্ন রয়েছে, তা শান্তির বার্তা বহন করে।’ ভিক্ষুকরা জানাচ্ছেন, অলোকা এখন তাঁদের পরিবারের সদস্য, সারাজীবনের সঙ্গী…