Unrest Situation in Iran: নিরাপত্তারক্ষীদের জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ! ‘ঘর সামলাতে’ ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি তেহরানের – Bengali News | Iran on the Brink: Tehran Warns Washington After Trump’s Threat of Military Action
বাঁদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ডানদিকে আয়াতোল্লা খামেনেইImage Credit: Getty Image
তেহরান: ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পাল্টা ইরানও সতর্ক করল ওয়াশিংটনকে। হামলা হলে, প্রত্যাঘাতের ক্ষমতা তেহরানের রয়েছে, এই ভাষাতেই আমেরিকা ও ইজরায়েলকে একযোগে নিশানা তেহরানের। এদিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁদের রাষ্ট্রীয় চ্য়ানেলে বসে বিস্ফোরক দাবি করে বলেছেন, ‘ইরানকে অশান্ত করার পিছনে আমেরিকা ও ইজরায়েলের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে।’ দেশের মানুষকে এই বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, রবিবার পর্যন্ত সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তারক্ষী মারা গেছেন। শুধু ইসফাহানেই একদিনে ৩০ জন পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী মারা গেছেন। কারমানশাহতে সাম্প্রতিক দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন আধডজন পুলিশকর্মী, দাবি রাষ্ট্রীয় ইরানের টিভির। পূর্ব ইরানের মাশাদের কাছে মসজিদে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। ইরানে জিনিসপত্রের আগুনছোঁয়া দাম, সরকারি দফতরে বেলাগাম দুর্নীতি, জীবনযাপনের মানের অবনতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বেনজির বিক্ষোভে শামিল হয়েছে নব্য প্রজন্ম। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছবিতে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ চলেছে। সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বিক্ষোভকারীদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, বহিরাগত শক্তির মদতে ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হলে মৃত্যুদণ্ড পেতে হবে। একই সাবধানবাণী শুনিয়ে রেখেছেন সে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল-ও।
ইরানের খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভ এমন আকার নিয়েছে, যে বিক্ষোভকারীরা সরকারি অফিসারদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারারও অভিযোগ উঠে গেছে। সে দেশের এক শীর্ষ পুলিশ অফিসার আলি লারিজানি-র দাবি, ISIS-এর ধাঁচে ইরানে সরকারি অফিসারদের পিটিয়ে, পুড়িয়ে মারছে বিক্ষোভকারীরা। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে তেহরানে এইরকম সহিংস আন্দোলন দেখেছেন। গত ২ সপ্তাহ ধরে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ আচমকাই যেন অতিরিক্ত হিংস্র হয়ে উঠেছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর বক্তব্য, ইরানের বেশিরভাগ মানুষ-ই যেমন সরকারের উপর খুশি নন, তেমনই দেশের সরকারি সম্পত্তি লাগামহীন ভাবে ধ্বংস করে, পুলিশকর্মীদের পুড়িয়ে মারারও পক্ষপাতী নন।
এদিকে ইরানের পরিস্থিতি দেখে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে হত্যা করা হলে আমেরিকাও চোখ বুজে থাকবে না, মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাহলে কি ইরানে অভিযান চালাবে আমেরিকা? আমেরিকাকে এই প্রসঙ্গে সতর্ক করেছেন ইরান পার্লামেন্টরের স্পিকার মহম্মদ বাকার কালিবাফ। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা যেন ভুলেও এই পদক্ষেপ না করে। ‘ট্রাম্প চূড়ান্ত মিস-ক্যালকুলেশন করে ফেলেছেন’, মন্তব্য ইরানি স্পিকারের। ইরান আক্রমণ করলে ইজরায়েলে যত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও রণতরী রয়েছে, সব হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের প্রাক্তন কমান্ডার। গতবছরের জুনে ইজরায়েল আচমকাই ইরানে হামলা চালায়। সে সময় দুই যুযুধান দেশ ১২ দিনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত আমেরিকার হস্তক্ষেপে ইরানের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিতে হামলা চালায় মার্কিন ও ইজরায়েলি বায়ুসেনা। যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তা-সহ পরমাণু বিজ্ঞানীরা মারা যান। পাল্টা ইজরায়েলের দিকে একের পর এক ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুঁড়ে হার না মানার মনোভাব দেখায় তেহরানও।