Donald Trump: মনমর্জি ‘আগ্রাসন’ নয়, ট্রাম্পের ক্ষমতায় রাশ টানল কংগ্রেস – Bengali News | US Senate Moves To Curb Trump’s War Powers After Venezuela Operation
ওয়াশিংটন: ‘যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে, সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া’ — এই পঙক্তি অপরিচিত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিস্থিতিও হয়তো এবার সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্ষমতার চূড়ায় বসে মনমর্জি মতো সিদ্ধান্ত আর নয়, এবার পালা রাশ টানার! ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহরণের’ পর এবার খানিকটা অস্বস্তিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাবছেন, কেন? বিলম্বে বোধদয় ঘটল মার্কিন প্রেসিডেন্টের?
ফিরে দেখা
গত শুক্রবার মধ্যরাতে আচমকাই কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস। লাগাতর সাতটি বিস্ফোরণ। এরপর বদলে গেল ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক, সামজিক এবং আন্তর্জাতিক পটচিত্র। লাইমলাইটে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ। কারণ, ট্রাম্প ততক্ষণে ঘোষণা করে দিয়েছেন মাদুরোর অপহরণের কথা।
আমেরিকার এমন ‘দাদাগিরি’ আজ নতুন নয়। কিন্তু অনেকেই মনে করেছিলেন সাদ্দাম হোসেন হয়তো শেষ। এমন রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে হানা আমেরিকা আর দেবে না। কিন্তু মাদুরোর ঘটনা তা আবারও প্রমাণ করে দিল, এই ভাবনাটাই ভ্রান্ত। অবশ্য, সাময়িক ভাবে। মাদুরোর অপহরণের ঘটনার পর একটি প্রশ্ন বারংবার উঠেছিল, কোন ক্ষমতাবলে এই কাজ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? আন্তর্জাতিক আইন তাঁকে অনুমতি দেয় না। এমনকি, তাঁর দেশের সংবিধান অনুযায়ী, আমেরিকান কংগ্রেস, এক কথায় তাঁদের দেশের সংসদের অনুমতি বিনা অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা সম্ভব নয়। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে শোনা যায়নি। তারপরই রাশ টানল কংগ্রেস।
সূর্যাস্তের পালা
বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছে। তাতে সাফ বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আর কোনও রকম সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশ্য অস্বস্তিতে পড়েও ভাবলেশহীন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই দেশে মার্কিন তদারকি চলতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সিনেটে প্রস্তাবিত এই যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫২ জন। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৭ জন। এই পক্ষে ভোটদানের নিরিখে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গ দিয়েছে ট্রাম্পের দল সদস্য অর্থাৎ রিপাবলিকানরাও। এই ঘটনা দু’টি বিষয়কে স্পষ্ট করে দিল। প্রথম সেনা আগ্রাসন যে জনস্রোতবিমুখী, তা প্রতিষ্ঠা হল। দ্বিতীয়, ট্রাম্প যে ক্ষমতার চূড়ায় উঠে পড়ছেন, তা এবার রিপাবলিকানরাও টের পাচ্ছেন।
শুধু সেনা-আগ্রাসন নয়, ট্য়ারিফ নিয়ে ট্রাম্পের প্রশ্নের মুখে পড়ার সম্ভবনা বাড়ছে। আমরা যখন এই ভিডিয়ো তৈরি করছি, সেই সময় আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে আসর সাজানো হচ্ছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানির। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, শনিবার মধ্যরাতে ট্রাম্পের চাপানো শুল্কহার নিয়ে রায় দিতে চলেছে সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট। ভারত-সহ বিশ্বের একাধিক দেশের উপর ট্রাম্প যে করের বোঝা চাপিয়েছিলেন তা নিয়েই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেদেশের শীর্ষ আদালত। সুতরাং নজর থাকছে সেদিকেও।