ArcelorMittal: নতুন আইনে ‘লক্ষ্মী’ছাড়া হবে Britain? কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন Indian Steel Tycoon? – Bengali News | ArcelorMittal: Indian Steel Tycoon Lakshmi Mittal Decided to Leave Britain Due to Abolish of UK’s Non Domicile Tax Regime
এবার ব্রিটেন ছাড়ছেন লক্ষ্মী!Image Credit: Mustafa Yalcin/Anadolu Agency/Getty Images
ব্রিটেনের লেবার সরকারের বাজেট ঘোষণার আগেই চরম অস্বস্তি সে দেশ জুড়ে। করকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তনের আশঙ্কায় দেশ ছাড়ছেন বা ছাড়ার কথা ভাবছেন সে দেশে বসবাসকারী ধনী ব্যক্তিরা। আর এই তালিকায় এবার সবচেয়ে বড় নাম, ভারতীয় শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তল। জানা গিয়েছে, গত ৩০ বছরে তিনি যে দেশে কাটিয়েছেন সেই দেশ ছেড়ে এবার তিনি দুবাই ও সুইজারল্যান্ডে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কেন ছাড়ছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী এই শিল্পপতি?
এর মূলে রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের পুরোনো ‘নন-ডোমিসাইল’ কর নীতির বিলোপ। আগে এই আইনের অনুযায়ী সে দেশে বসবাসকারী ধনী অনাবাসীরা শুধু ব্রিটেনে উপার্জিত আয়ের উপর কর দিতেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁদের সম্পদের উপর কোনও কর দাবি করত না সে দেশের সরকার। কিন্তু নতুন আইনে পুরো পরিস্থিতির পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে, বদল এসেছে উত্তরাধিকার করে।
লক্ষ্মী মিত্তলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, আয়কর বা তাঁর লভ্যাংশের উপর কর নিয়ে তাঁর কোনও সমস্যাই নেই। তাঁর সমস্যা রয়েছে ৪০ শতাংশ উত্তরাধিকার কর নিয়ে। এই নতুন নিয়মে, বিদেশে থাকা সম্পত্তির উপরও ব্রিটেনের কোষাগারকে কর দিতে হবে। মিত্তলের মোট সম্পত্তি প্রায় ২ হাজার ১৪০ কোটি ডলার। আর এই সম্পত্তির উপর কর তাঁর উত্তরাধিকারীদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ।
লন্ডনে কী রেখে যাচ্ছেন ‘আর্সেলরমিত্তল’ কর্তা?
১৯৯৫ সাল থেকে লন্ডনে বাস করছেন আরসেলরমিত্তল-এর প্রতিষ্ঠাতা ভারতীয় ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তল। ২০০৪ সালে ৫ কোটি ৭০ লক্ষ পাউন্ডে কেনা কেনসিংটন প্যালেস গার্ডেনের তাঁর বিখ্যাত প্রাসাদ ‘তাজ মিত্তল’-এর মালিকানা তিনি ছাড়ছেন না। জানা গিয়েছে, এখন থেকে তাঁর প্রধান ঠিকানা হতে চলেছে দুবাই ও সুইজারল্যান্ড। এই দুই দেশেই উত্তরাধিকার করের কোনও বোঝা নেই।
উল্লেখ্য, রাজস্থানে জন্ম হলেও কলকাতায় বড় হয়েছেন লক্ষ্মী মিত্তল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। তাঁর ব্রিটেন ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত যে একমাত্র তাঁরই এমন নয়। আসলে এই মুহূর্তে এই করের কারণে একাধিক ধনকুবের সে দেশ ছাড়ছেন। উদ্যোগপতি হারমান নারুলা বা নিক স্টোরনস্কির মতো অনেকেই ব্রিটেন ছেড়েছেন বা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কর নীতির এই অস্থিরতা বিদেশি যে কোনও সংস্থা নতুন করে বিনিয়োগের জায়গা হিসাবে ব্রিটেনের কথা হয়ত আর ভাববে না।
ব্রিটেনের লেবার সরকার মনে করছে তাদের এই নতুন কর নীতিতে ২ হাজার কোটি পাউন্ডের ঘাটতি পূরণ হবে। কিন্তু লক্ষ্মী মিত্তল সহ একাধিক ধনকুবেরদের দেশত্যাগ বিশ্বের অর্থনীতিতে এক স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— অস্থির কর নীতিতে ‘লক্ষ্মী’ কখনওই স্থায়ী হয় না।