Bangladesh Education, MD Yunus: সঙ্গীতশিক্ষা বন্ধ, PT ক্লাসও নেই―বাংলাদেশে ইউনুসের ভয়াবহ সিদ্ধান্ত! – Bengali News | Cultural Fascism: Bangladesh Campuses Erupt in Protest Against Yunus Government’s Decision
অফিস যাচ্ছেন কানে ইয়ারফোন গুঁজে? পছন্দের গান শুনতে শুনতে ভাবছেন অনেক কিছু। এইবার ভাবুন। জীবনে সঙ্গীত নেই। মিউজিক নেই। সুর নেই। কেমন লাগবে? খানিকটা এমনই হতে চলেছে আমাদের প্রতিবেশী দেশে। রাষ্ট্রের নাম বাংলাদেশ। এই দেশ তৈরি করেছে একের পর এক বিখ্যাত গায়ক। অতুলপ্রসাদ সেন থেকে জেমস। আইয়ুব বাচ্চু থেকে রুনা লায়লা। যে দেশের তালিকায় রয়েছে ওয়ারফেজ-আর্টসেল-কাকতালের মতো বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড, সেই দেশে এইবার ইউনুস প্রশাসন নিয়েছে এমন এক সিদ্ধান্ত―যার জেরে সঙ্গীতচর্চার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। যেখানে একদিকে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলে স্কুলে বাধ্যতামূলক হচ্ছে রাজ্য সঙ্গীত, সেখানে কী এমন হল আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে? কেন ফের উত্তাল হচ্ছে ইউনুস আমলের বাংলাদেশ?
এই সঙ্গীত এবং বিদ্বেষ যে বাংলাদেশে পাশাপাশি বিরাজ করে, তার প্রমাণ সে দেশ আগেও দিয়েছে। হাসিনা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সেনার প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আজমি জাতীয় সঙ্গীত বদলের দাবি তোলেন। যুক্তি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয়। তাঁর লেখা গান বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হবে কেন? যদিও ‘আমার সোনার বাংলা’কে ভালবেসে এই গানকেই জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে মাথায় তুলে রেখেছে আপামর বাংলাদেশবাসী। বর্তমানে ইউনুস সরকারের আবার এক খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত! কেউ কেউ বলছেন ইসলামিক জিগির, কেউ কেউ বলছেন সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ। রাজনীতিকদের মতে, ইসলামপন্থীদের চাপে ফের নত হয়েছে ইউনুস সরকার। আচ্ছা―কী ঘটেছে সেই দেশে?
গত ২৮ আগস্ট জারি হওয়া ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫’-এর গেজেটে দেখা যায়, সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক পদ অন্তর্ভুক্ত। এরপর বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতারা সঙ্গীত শিক্ষকের বদলে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের দাবি তোলেন। গত ২ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংশোধিত গেজেটে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষার পদ দুটি বাতিল হয়ে যায় হঠাৎই! এ ব্যাপারে সরকারের তরফে আবার একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়। যদিও তাতে জনমানসে খুব একটা চিঁড়ে ভেজেনি…
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই অদ্ভুত সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার এই পদগুলো বাতিল করেছে ইসলামপন্থী সংগঠন ‘হেফাজতে ইসলাম’ ও ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর চাপে। ইউনুস প্রশাসনের মুখপাত্র মাসুদ আখতার খান সে দেশের প্রথম সারির এক সংবাদমাধ্যমে সাফ জানিয়েছেন যে, শিক্ষকের পদসংখ্যা এতই কম যে এই দুই বিষয়ের কোনও ‘কার্যকর ফল’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাওয়া যেত না।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত, নাটক ও নৃত্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে গান গেয়ে ও স্লোগান তুলে পদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা স্কাল্পচার স্কয়ারে মানববন্ধন গড়ে তোলেন। গায়ক শায়ান শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান—ধর্ম বনাম সঙ্গীতের বিভাজন ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হতে। শিক্ষাবিশারদরা তো বলেই দিচ্ছেন যে সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিশুদের সার্বিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। তবে এই প্রতিবাদ নিয়ে কি কিছু ভাবছে ইউনুস প্রশাসন?
এবার কি তাহলে পুরোপুরি আফগানিস্তানের পথেই এগিয়ে গেল বাংলাদেশ? বাংলাদেশে কি তালিবান-শাসনের ছায়া? আবারও উগ্রবাদীদের হুঙ্কারে যেভাবে পিছু হটলেন নোবেল জয়ী ইউনূস, তাতে এমন প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যানের মাধ্যমে কণ্ঠরোধ করার অভিযোগ তুলে পথে নেমেছিল জেন-জিরা, উত্তাল হয়েছিল নেপাল। বাংলাদেশে সঙ্গীতচর্চা ও শারীরশিক্ষার টুঁটি টিপে ধরে ফের একইরকম আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি করছেন না তো ইউনুস? পড়ুয়াদের সর্বাঙ্গীন বিকাশের কথা ভেবে এই ভয়াবহ সিদ্ধান্ত থেকে কবে সরে আসবেন ইউনুস―এখন আপাতত সেটার অপেক্ষাতেই আপামর বাংলাদেশবাসীরা…