Bhawanipur: ভাবনীপুর থানার পুর্নবিন্যাসে ভোটবাক্সে প্রভাব পড়বে? উঠছে প্রশ্ন – Bengali News | Will the reorganization of Bhavnipur police station affect the ballot box, What statistics showing
কলকাতা: আলিপুর, পার্ক স্ট্রিট, ওয়াটগঞ্জ, নিউ মার্কেট, একবালপুর – আচমকা পাঁচ থানার পুর্নবিন্য়াস নিয়ে জোরদার চাপানউতোর প্রশাসনিক মহলে। কিছু থানার সীমানা যেমন বেড়েছে, কিছু থানার সীমানা তেমনই কমেছে। আর এর সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে ভাবনীপুরের নাম। কলকাতা পুলিশের ৯১টি থানার মধ্যে শুধুমাত্র ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৫ থানারই কেন পুনর্বিন্যস হল তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ভবনীপুরের যে অংশগুলির রদবদল হল সেগুলি সবই চলে গেল সাউথ ডিভিশনে। এখানেই উঠে আসছে নানা মত। প্রাক্তন আইপিএস নজরুল ইসলাম বলছেন, “ এক একটা বুথে যে সমস্ত মৃত মানুষের নাম আছে, নাগরিকই নয় এমন মানুষের নাম আছে, সেই নামগুলির বাদ যাওয়া ঠেকাতে তো প্রশাসনের মধ্যে শক্ত হাত যাঁদের তাঁদের লাগবে। ভবানীপুর এলাকার মধ্যে যে এলাকাগুলি পড়ছে সেগুলি যদি খুব বেশি থানায় না থেকে অল্প থানায় থেকে, একই ডিভিশনে থাকে তাহলে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে। আমার ধারনা এ ছাড়া এর পিছনে অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে না।”
ওয়ার্ডভিত্তিক ফলাফলে কারা কারা এগিয়ে?
এই থানার পুর্নবিন্যাসে ভোট বাক্সেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের কলকাতা পুরনিগমের ভোটের ওয়ার্ডভিত্তিক ফলাফলের বলছে ভবানীপুর বিধানসভার ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটিতেই এগিয়ে ছিল বিজেপি। সেই তালিকায় ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড। এখন ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্য (চট্টোপাধ্যায়), ৭০ নম্বরের অসীম কুমার বোস (যিনি বিজেপি থেকে তৃণমূলে যান), ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পাপিয়া সিং, ৭২ নম্বরের কাউন্সিলর সন্দীপরঞ্জন বক্সী (যিনি তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির ভাই) এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস।
এই ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটা অংশ ছিল নিউ মার্কেট থানার অংশ। অর্থাৎ সেন্ট্রাল ডিভিশনের হাতে। এখন সেটা পার্কস্ট্রিট থানার হাত ধরে সাউথ ডিভিশনে। অন্যদিকে ৭০, ৭১ আগে থেকেই ভবানীপুর থানার অংশ অর্থাৎ সাউথ ডিভিশনের ভিতরে। একইভাবে ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডও সাউথ ডিভিশনের আওতাধীন।
কী অবস্থা তৃণমূল?
তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে ৭৩, ৭৭ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে। এগুলি কলকাতা সাউথ ডিভিশনে। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মমতার ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, ৭৭ নম্বরের কাউন্সিলর শামিমা রেহান খান ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফিরহাদ হাকিম। কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রীর ওয়ার্ডে তৃণমূল পেয়েছে ১২ হাজার ১৯১ ভোট। বিজেপি ৮৯৫৭ ও সিপিআইএম ২৩১০ ভোট পেয়েছে। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল পেয়েছে ৬২৬৯টি ভোট, বিজেপি ৫৯৯০ ও সিপিআইএম ১২৩২টি ভোট। ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল পেয়েছে ১৮১১৮টি ভোট, বিজেপি ২৭৭২টি, সিপিআইএমের ঝুলিতে গিয়েছে ৫৯৬০টি ভোট।
কী অবস্থা বিজেপির?
অন্যদিকে ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি পেয়েছে ৫৭৯৮টি ভোট, তৃণমূল ৪৩৩০ ও সিপিআইএম ৬৯৯টি ভোট। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি পেয়েছে ৬৭১৫, তৃণমূল ৩১৩৮টি ভোট। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি পেয়েছে ৭৫৫৩টি ভোট, তৃণমূল ৬৫৫১ ও সিপিআইএম ১৩৭৪টি ভোট পেয়েছে। ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি ৬৪৯৮ ও তৃণমূল ৪৬৪০টি ভোট পেয়েছে। ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি পেয়েছে ৯৫৪৪টি ভোট, তৃণমূল ৭১৩২টি ও সিপিআইএম ১০৮৬টি ভোট।
বিতর্ক চরমে
এই ভবানীপুরেই সদ্য দানা বেঁধেছিল ‘আউটসাইডার’ বিতর্ক। মমতা সাফ বলেছিলেন, “ভবানীপুরটা পুরো আউটসাইডারদের দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্ল্যানিং করে করা হচ্ছে। আউটসাইডার নামে যাঁরা বাংলায় থাকেন, তাঁদের আমি আউটসাইডার বলছি না। যাঁরা হঠাৎ করে বাইরে থেকে এসে টাকা খরচ করে জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করছেন, তাঁদের কথা বলছি।” যদিও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, “ভবনীপুর আসন তৃণমূলের জন্য নিরাপদ ছিল না, আজও নেই। কারণ ভবানীপুরে সংখ্যালঘু আসন মাত্র ২০ শতাংশ। তাও চেতলার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭ হাজার ভোট লিড নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর দল ৭ হাজার ৮০০ ভোটে জিতেছে। SIR-এ বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের নাম বাদ চলে যাওয়ার পরে ওই আসনেও লিড পাবে না।”