Death Railway: ব্রিটিশ যুদ্ধবন্দিদের লাশের উপর দিয়ে আমাদের মহাদেশে ৪১৫ কিলোমিটার রেলপথ! – Bengali News | Death Railway: 415 kilometers of railway on our continent in Thailand over the dead bodies of British prisoners of war!
এই রেললাইনের ভিতে হাজার হাজার ব্রিটিশ ‘লাশ’!Image Credit: Andrew Woodley/Education Images/Universal Images Group via Getty Images
চারদিকে পাহাড়, মাঝখান দিয়ে কু ঝিকঝিক করে এগিয়ে চলেছে একটা ট্রেন। বাইরের দিকে তাকালে মন ভাল হয়ে যেতে বাধ্য। দার্জিলিংয়ের টয়ট্রেনের মতো, কিন্তু বাইরের দৃশ্য আরও সুন্দর। ট্রেন নয়, ঠিক যেন পাহাড়ের কোলে রোপওয়ে। কিন্তু এই রেলওয়ে বিখ্যাত ‘ডেথ রেলওয়ে’ নামে। অবশ্য বিখ্যাত নাকি কুখ্যাত, সে নিয়ে একটা বিতর্ক থেকেই যায়।
এই রেলপথের দৈর্ধ্য মাত্র ৪১৫ কিলোমিটার। আর এই রেল লাইন পাতার সময় মারা গিয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। তৎকালীন বার্মা বা আজকের মায়ানমার থেকে থাইল্যান্ডের মধ্যে এই রেলপথ তৈরি করার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন যুদ্ধবন্দি থেকে সাধারণ মানুষ। মাত্র ১ বছরের মধ্যে এই রেলপথ তৈরি করেছিল জাপান সরকার। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক থেকে মায়ানমারের থানবিউজায়াত পর্যন্ত রুটের বর্তমানে পুরো অংশে ট্রেন চলে না। ব্যাঙ্কক থেকে ৮০ কিমি দূরের নং প্লা ডুক স্টেশন থেকে কাঞ্চনাবুরি হয়ে নাম টোক পর্যন্ত চলে এই ট্রেন।
১৯৪২ সালে জাপান যখন সিঙ্গাপুর, ফিলিপিন্স দখল করে, তখন মিত্রশক্তির প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার সেনা জাপানিদের হাতে বন্দি হয়। এর মধ্যে যেমন ছিল ৫০ হাজারের বেশি ব্রিটিশ, তেমনই ছিল প্রায় ২২ হাজার অস্ট্রেলিয় ও অন্তত ২৫ হাজার ভারতীয় সেনা। বর্মায় নিজেদের ঘাঁটি শক্তিশালী করতে ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মসৃণ করতে একটা রেল যোগাযপগ স্থাপনের পরিকল্পনা করে জাপান সরকার। আর সেই রেলপথ নির্মাণে প্রায় ৩০ হাজার ব্রিটিশ, ১৩ হাজার অস্ট্রেলিয় সহ মোট ৬০ হাজারের বেশি যুদ্ধবন্দিকে কাজে লাগায় জাপানিরা।
যুদ্ধবন্দিদের অনেকেই অর্ধাহার ও অনাহারে মারা যান। যেখানে তাঁরা থাকতেন সেখানের ব্যবস্থা ছিল অস্বাস্থ্যকর। এ ছাড়াও আবহাওয়ার কারণে অনেক রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে কলেরা, আমাশা, ডায়েরিয়া, ম্যালেরিয়া ও আলসার। জানা যায়, প্রতি তিন মৃত ব্যক্তির মধ্যে একজন আমাশা বা ডায়েরিয়াতেই মারা যেতেন।