Skin Care: শুষ্ক ত্বকের কষ্ট ভুলুন, শীত আসার আগেই নিজের ডায়েটে এই বদল আনুন – Bengali News | Skin Care Tips, These foods can helps to prevent dry skin in winter season
শুষ্ক ত্বকের কষ্ট ভুলুন, শীত আসার আগেই নিজের ডায়েটে এই বদল আনুনImage Credit: Pinterest
শীতকাল দরজায় কড়া নাড়ছে। আর তার আগেই কি আপনার ত্বক হয়ে উঠছে রুক্ষ, শুষ্ক ও খসখসে? এই সময় আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত কমতে থাকে। তবে শুধু বাইরে থেকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেই হবে না, ত্বককে ভিতর থেকে তরতাজা ও সতেজ রাখতে হলে আপনার খাদ্যতালিকায় (Diet) কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বিশেষ খাবার আছে, যা আপনার ত্বকের শুষ্কতা দূর করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ত্বককে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করতে কোন কোন খাবার আপনার দৈনন্দিন ডায়েটে থাকা আবশ্যক।
১. জল
ত্বককে সতেজ রাখার মূল চাবিকাঠি পর্যাপ্ত জল পান করা। অনেকেই শীতকালে জল কম খান। যা ত্বকের শুষ্কতার অন্যতম কারণ। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস জল পান করুন। জল শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে এবং ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। জলের পাশাপাশি ডাবের জল, স্যুপ বা হার্বাল চা পান করতে পারেন।
২. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের কোষের প্রাচীরকে মজবুত করে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক কোমল থাকে। এই উপাদানগুলি ত্বকের প্রদাহ কমাতেও সহায়ক। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যাটি মাছ। যেমন – স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকেরেল-এর মতো মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের খুব ভাল উৎস। এ ছাড়া বাদাম ও বীজও এই তালিকায় রয়েছে। যেমন – আখরোট, ফ্ল্যাক্স সিড, চিয়া সিড এবং আমন্ড। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ এবং ভিটামিন-ই থাকে। যা ত্বকের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন সকালে একমুঠো ভেজানো আমন্ড বা চিয়া সিড ভেজানো জল খাওয়া খুবই উপকারী।
৩. ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত ফল
ভিটামিন-সি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। যা ত্বককে টানটান ও উজ্জ্বল রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং ফ্রি র্যাডিক্যালস থেকে হওয়া ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
লেবুজাতীয় ফল: কমলালেবু, পাতিলেবু ভিটামিন-সি-এর ভাণ্ডার।
বেরি জাতীয় ফল: ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি ভিটামিন-সি এবং ই-তে ভরপুর।
টমেটো: এতে থাকা লাইকোপেন ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৪. ভিটামিন-এ ও বিটা-ক্যারোটিন
ভিটামিন-এ এবং বিটা-ক্যারোটিন (যা শরীরে ভিটামিন-এ-তে রূপান্তরিত হয়) ত্বকের কোষ মেরামতে এবং নতুন কোষ গঠনে অপরিহার্য। এটি ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
মিষ্টি আলু: এটি বিটা-ক্যারোটিনের দারুণ উৎস।
গাজর: ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ।
পেঁপে: এতে জলের পরিমাণ বেশি এবং ভিটামিন-এ, সি ও ফোলেট থাকে।
৫. সবুজ শাকসবজি
পালং শাক, কেল, ব্রকোলি-এর মতো গাঢ় পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজিতে থাকে ভিটামিন এ, সি, ই এবং আয়রন, যা ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। ভিটামিন-ই ত্বককে আর্দ্রতা যোগাতে সাহায্য করে।
৬. দই
টক দই প্রোবায়োটিক্সে ভরপুর, যা হজম ক্ষমতা উন্নত করে। হজম ভাল থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব ত্বকের উপরেও পড়ে। দই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ব্রণর সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে।
৭. অ্যাভোক্যাডো
অ্যাভোক্যাডোতে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এটি ত্বকের র্যাশ কমাতে ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনরুজ্জীবিত করতে দারুণ কার্যকর।
তাই, শুধু ক্রিম বা লোশন মেখেই নয়, আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলি যোগ করে আপনি শীতকালেও ত্বককে সতেজ, আর্দ্র এবং প্রাণবন্ত রাখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, যেকোনও পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভাল।