Shahi Rezala: বাড়িতে সহজে বানান রাজকীয় টেস্টের শাহি রেজালা, সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট – Bengali News | Shahi Rezala Recipe, how to make Shahi Rezala
বাড়িতে সহজে বানান রাজকীয় টেস্টের শাহি রেজালা, সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিটImage Credit: Pinterest
বাঙালির হেঁশেলের অন্যতম জনপ্রিয় এবং আভিজাত্যপূর্ণ পদ হল শাহি রেজালা। এর নামেই জড়িয়ে আছে রাজকীয়তার ছোঁয়া। মোঘলাই রান্নার ঐতিহ্য বহনকারী এই পদটি মূলত মটন বা চিকেন দিয়ে তৈরি হয়। যা হালকা, ক্রিমি গ্রেভি এবং সুগন্ধি মশলার অপূর্ব মিশ্রণে জিভে জল আনা স্বাদ সৃষ্টি করে। সাধারণত বিশেষ কোনও উৎসব-অনুষ্ঠান বা ঘরোয়া দাওয়াতে পোলাও, পরোটা বা রুটির সঙ্গে রেজালা পরিবেশন করা হয়। এই পদটির বিশেষত্ব হল এর সাদা অথবা হালকা হলুদ রঙের গ্রেভি, যার জন্য এতে হলুদ এবং লঙ্কা গুঁড়োর ব্যবহার খুবই কম হয়। এই রাজকীয় পদটির প্রতিটি গ্রাসে মিশে আছে পুরনো দিনের সুঘ্রাণ আর নবাবী ভোজনরসিকতার ইতিহাস। চলুন, এই অসাধারণ রেজালা তৈরির সম্পূর্ণ প্রণালী জেনে নেওয়া যাক।
শাহি রেজালা বানাতে কী কী লাগবে?
মাংস দেড় কেজি, পেঁয়াজবাটা হাফ কাপ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা হাফ টেবিল চামচ, শাহি জিরেবাটা ১ চা চামচ, পোস্তবাটা ১ টেবিল চামচ, শুকনো লঙ্কাগুঁড়ো ১ চা চামচ, পেঁয়াজকুচি হাফ কাপ, তেল বা ঘি ১ কাপ, তেঁতুলগোলা ২ টেবিল চামচ, টকদই হাফ কাপ, দুধ ১ কাপ, নুন পরিমাণমতো, চিনি ১ টেবিল চামচ, কাঁচালঙ্কা ৮-১০টি, তেজপাতা ২টি, দারুচিনি ৪ টুকরো, এলাচ ৪টি, লবঙ্গ ৪টি, কেওড়াজল ১ টেবিল চামচ, বেরেস্তা হাফ কাপ, জায়ফল ও জয়ত্রী গুঁড়ো হাফ চা চামচ, গরমমশলার গুঁড়ো ১ চা চামচ, ফুড কালার, জল পরিমাণমতো।
শাহি রেজালা বানানোর পদ্ধতি
প্রথমে মাংসের টুকরোগুলো ধুয়ে পোস্ত বাদে সব বাটামশলা, শুকনোলঙ্কা গুঁড়ো, টকদই, নুন, গরমমশলা, তেজপাতা দিয়ে মাখিয়ে এক থেকে দেড় ঘণ্টা রাখুন। এরপর হাঁড়িতে তেল বা ঘি গরম করে পেঁয়াজ ভেজে মশলা মাখানো মাংস দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। মাংস তেলের ওপর এলে গরম জল দিন। এরপর মাংস সেদ্ধ হয়ে ঝোল শুকিয়ে এলে পোস্ত দুধে গুলে ঢেলে দিন। এ বার ফুড কালার কেওড়া জলের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। চিনি, কাঁচালঙ্কা, তেঁতুলগোলা এ বার মাংসে দিন। তেল ওপরে উঠে এলে পেঁয়াজ, বেরেস্তা ও গুঁড়ো মশলা একসঙ্গে মিশিয়ে মাংসে দিন। তা হলেই তৈরি সুস্বাদু শাহি রেজালা।
শাহি রেজালা তৈরি করা হয়তো কিছুটা সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের কাজ। তবে রান্নার শেষে যখন এর সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবেশনের পরে প্রথম গ্রাসে রাজকীয় স্বাদ অনুভূত হয়, তখন সমস্ত পরিশ্রম সার্থক মনে হয়। ঘি, কেওড়া জল এবং বিভিন্ন মশলার নিখুঁত সমন্বয় এই পদটিকে কেবল একটি খাবার নয়, বরং একটি শৈল্পিক সৃষ্টিতে পরিণত করেছে।