Tejas MK II vs Rafale Explain: অবসরে মিগ! রাফাল না তেজস, ২ লক্ষ কোটির বাজেটে কী আসবে বায়ু সেনায়? - Bengali News | Tejas Mk II Vs Rafale: MiG 21 Bison retired! Rafale or Tejas, what will come to the Air Force with a budget of Rs 2 lakh crore? Which fighter jet can strengthen India's defence? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Tejas MK II vs Rafale Explain: অবসরে মিগ! রাফাল না তেজস, ২ লক্ষ কোটির বাজেটে কী আসবে বায়ু সেনায়? – Bengali News | Tejas Mk II Vs Rafale: MiG 21 Bison retired! Rafale or Tejas, what will come to the Air Force with a budget of Rs 2 lakh crore? Which fighter jet can strengthen India’s defence?

Spread the love

অবসর নিল ভারতীয় বায়ু সেনার অন্যতম পুরনো সঙ্গী মিগ-২১ বাইসন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের এই যুদ্ধবিমানগুলো ভারতীয় বায়ুসেনাকে ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে সার্ভিস দিল। আর তাদের অবসরের ফলে, ভারতীয় বায়ু সেনায় তৈরি হয়েছে এক অদ্ভূত শূন্যতা। স্কোয়াড্রনের সংখ্যা নেমে এসেছে ২৯-এ। যদিও প্রায় ৬০ বছর আগে হিসাব করা হয়েছিল ভারতীয় বায়ু সেনায় মোট ৪২টি স্কোয়াড্রন প্রয়োজন। আর বর্তমানে যে ভাবে ভারতের উপর শত্রুদের নজরদারি বাড়ছে তাতে এই সংখ্যা অন্তত ৫০ হতে হবে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে, খুব তাড়াতাড়িই ভারতের নতুন যুদ্ধবিমান প্রয়োজন। কিন্তু নতুন এই যুদ্ধবিমান কি ফ্রান্সে তৈরি রাফাল নাকি ভারতীয় সংস্থা হ্যালের তৈরি তেজস মার্ক ২? বায়ু সেনা কী চাইছে?

আসলে বায়ু সেনার ফাইটার জেটের স্কোয়াড্রনে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়ছে, তা পূরণের জন্য একদিকে যেমন ফ্রান্সের তৈরি উন্নত ৪.৫ প্রজন্মের রাফালের মতো মাল্টি রোল ফাইটার এয়ারক্র্যাফট কেনার জন্য MRFA চুক্তির বিবেচনা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে রয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস মার্ক-২। স্বল্প সময়ে বায়ু সেনাকে শক্তিশালী করার জন্য ভারত কি বিদেশি বিমানের উপর নির্ভর করবে, নাকি দেশীয় প্রযুক্তি আর দেশীয় সংস্থার উপর ভরসা রাখবে? এই বিশ্লেষণ কিন্তু ঘুরিয়ে দিতে পারে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলের মোড়।

খরচ ও স্কোয়াড্রন

রাফাল যদি ভারতেও তৈরি করা হয় তাহলেও ১টি যুদ্ধবিমানের খরচ হবে আনুমানিক ১৯৩ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার আশেপাশে। অন্যদিকে, ১টি তেজস মার্ক-২ তৈরি করতে খরচ ধরা যেতে পারে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ৬২০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা।

অঙ্কটি বেশ সরল, ২৪.৫ বিলিয়ন ডলার বা ২লক্ষ ১৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার যে বাজেট ১১৪টি রাফালের জন্য বরাদ্দ হচ্ছে, সেই একই টাকায় ভারত অনায়াসে ২৫০টি পর্যন্ত তেজস মার্ক-২ যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারত। আর এই সংখ্যক যুদ্ধবিমান দিয়ে অনায়াসেই দিয়ে ১২ থেকে ১৩টি নতুন স্কোয়াড্রন তৈরি করা যেত। এর ফলে শুধু স্কোয়াড্রনের ঘাটতিই মিটত এমনটা নয়। চিন ও পাকিস্তানের দ্বৈত চোখ রাঙানি মোকাবিলার করতে কিছুটা অতিরিক্ত সুবিধাও পেত আমাদের দেশ। আর এর ছাড়াও তেজস যুদ্ধবিমান কিনলে ওই টাকার অনেকটাই ঘুরে ভারতের অর্থনীতিতেই বিনিয়োগ হত।

দেশীয় রাডার প্রযুক্তি

প্রযুক্তির দিক থেকে তেজস মার্ক-২-কে বলা যায় নীরব বিপ্লব। কারণ এই বিমানে ব্যবহার করা হবে দেশীয়ভাবে তৈরি AESA রাডার। এই রাডার অত্যাধুনিক গ্যালিয়াম নাইট্রাইড (GaN) প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি।

অন্যদিকে, রাফালের বর্তমান RBE2 AESA রাডার পুরোনো গ্যালিয়াম আর্সেনাইড (GaAs) প্রযুক্তির। গ্যালিয়াম নাইট্রাইড (GaN) রাডার কিন্তু গ্যালিয়াম আর্সেনাইড (GaAs) রাডারের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়ার এফিসিয়েন্ট। এ ছাড়াও জ্যামিং-এর বিরুদ্ধে দারুণ শক্তিশালী। আবার ২০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের বস্তুকেও চিনতে পারে এই রাডার। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর সমতুল্য GaN-ভিত্তিক F5 ভ্যারিয়েন্ট যুক্ত রাফাল বাজারে আসতে অন্তত ৭ বছর সময় লাগবে। মানে ২০৩৩ সালের আগে এই প্রযুক্তি যুক্ত রাফাল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অর্থাৎ, তেজস মার্ক-২-এর মাধ্যমে ভারত ২০২৬ সালের মধ্যেই এই রাডার প্রযুক্তিগত সুবিধা পেতে পারে।

ইঞ্জিনে ইঞ্জিনিয়ারিং

তেজস মার্ক-২-এর দুর্বলতা হিসাবে ইঞ্জিনের নির্ভরযোগ্যতার কথা বলা হয়। আপাতত তেজস মার্ক ১-এ আমেরিকার General Electric F414-INS6 ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ইঞ্জিন রাফালের Snecma M88 ইঞ্জিনের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।

তবে ভারত এই নির্ভরতাকে কৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। জেনারেল ইলেকট্রিকের সঙ্গে ৮০ শতাংশ প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি হয়েছে। যার মাধ্যমে হ্যাল বেঙ্গালুরুর প্ল্যান্টে ২৪০টি F414 ইঞ্জিন তৈরি করতে পারবে। এটি কেবল ইঞ্জিনের স্থানীয় উৎপাদন নয়, একাধিক উন্নত প্রযুক্তি আসছে ভারতে। রাফালের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নির্ভরতা ফরাসি সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর থাকত। হ্যাল বা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইঞ্জিন তৈরি করার এই চুক্তি ভারতের নিজস্ব যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন তৈরির প্রচেষ্টার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে দিল।

এ ছাড়াও ফরাসি সংস্থা স্যাফরনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ইঞ্জিন তৈরি করতে পারে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা হ্যাল। এই ইঞ্জিন আপাতত পঞ্চম প্রজন্মের AMCA-তে লাগানো হবে মনে করা হলেও, এই ইঞ্জিন কিন্তু আগামীতে তেজসেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

অর্থনৈতিক সুবিধা

রাফাল চুক্তি এমন একটি চুক্তি, যেখানে বিদেশি বিমান কিনবে ভারত। ফলে, বিপুল অর্থ বিদেশে চলে যাবে। কিন্তু তেজস মার্ক-২ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিলে এই বিপুল অর্থ সরাসরি ভারতের প্রতিরক্ষা ও উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ হয়ে যাবে।

সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ

তেজস মার্ক ২ যেহেতু ভারতীয় সংস্থার দ্বারা সম্পূর্ণ ভারতে তৈরি হবে সেই কারণে এর রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন অস্ত্র সংযোজন ও আপগ্রেডেশনের জন্য অন্য কোনও দেশের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। এই কাজ একেবারে নিজের মতো করে করতে পারবে ভারত। অন্যদিকে, রাফাল যতই ভারতে তৈরি হোক না কেন, সেই বিমানে এমন কিছু করতে গেলে প্রথমের অনুমতি লাগবে ফ্রান্সের। এ ছাড়াও রাফালের সোর্স কোড ভারতের হাতে না থাকলে প্রয়োজনীয় আপগ্রেড করতে পারবে না ভারত।

কর্মসংস্থান ও শিল্প

দেশীয় বিমান তৈরির মাধ্যমে একাধিক নয়া উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আর এর ফলে, আগামীর AMCA বা Advanced Medium Combat Aircraft-এর মতো পঞ্চম প্রজন্মের বিমান তৈরির পথ সুগম হবে।

আগামীতে হয়তো রাফাল খুব তাড়াতাড়ি ভারতীয় বায়ু সেনাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। তবে, দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আর প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য তেজস মার্ক-২-এর মতো দেশীয় প্রকল্পেই বিপুল বিনিয়োগ করা উচিত। তবে, যেহেতু এক ধাক্কায় বায়ু সেনায় একটা শূন্যতা তোইরি হবে, সেই কারণে ভারত একটি ভারসাম্যের পথ নিতে পারে। অর্থাৎ, কিছু সংখ্যক রাফাল জরুরি ভিত্তিতে কিনতে পারে ভারতীয় বায়ু সেনা। আর বাকি অর্থ তেজসের মার্ক ২-এর জন্য বিনিয়োগ করতে পারে তারা। আর এমন যদি হয় তাহলে ভারত নিজের দেশে তৈরি বিমানের পাশে থাকবে। আর এই ভাবে ধীরে ধীরে আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে আমাদের দেশ। যাতে আগামীতে কোনও বিদেশী ভীতি বা শর্তের কাছে আমাদের মাথা নত করতে হবে না। তেজস মার্ক-২ প্রমাণ করবে, ভারত কেবল অস্ত্র কেনে না, তারা বিশ্বমানের অস্ত্র তৈরিও করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *