হাঁটুর ভাঁজে কাগজ রেখে ছবি আঁকতেন, স্ক্রিপ্ট লিখতেন সত্যজিৎ, জানেন কেন টেবিল ব্যবহার করতেন না মানিকবাবু? – Bengali News | Here is why satyajit ray not ever use a writing table for his daily work
বন্ধু-বান্ধব হোক বা সিনে ইন্ডাস্ট্রির লোকজন। সত্যজিৎ রায়ের বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়িতে যাঁরা গিয়েছেন, পরিচালকের নিজস্ব ঘরে যাঁরাই পা রেখেছেন, তাঁরা হামেশাই সত্যজিৎকে প্রশ্ন করেছেন, আপনার ঘর এতো আগোছালো কেন? আজও যদি কেউ সত্যজিতের সেই ঘরে পা রাখেন, তাহলে দেখা মিলবে চারিদিকে নানা মাপের কাগজের সম্ভার, দেশ-বিদেশি বইয়ের ভিড়। এমনকী, জানলার পাশে রাখা টেবিলও উপচে পড়ছে নানা কাগজে। আর এক পাশে রাঁখা একটা কাঠের ইজি চেয়ার,যে চিয়ারে বসেই বই পড়া, ছবি আঁকা, টাইপ রাইটারে লেখালেখি করতেন সত্যজিৎ। সত্যজিতের বসার ছিল নিজস্ব এক কায়দা। হাঁটু গুটিয়ে প্রায় বুকের সামনে নিয়ে, সেই ভাঁজেই কাগজ বা টাইপরাইটার রেখে লিখতেন সত্যজিৎ। তা এমন কেন করতেন তিনি? বড়সড় ঘরটায় এমন কোনও টেবিল ছিল না? যেখানে চেয়ার নিয়ে বসে নিশ্চিন্তে সিনেমার কাজ সারতে পারতেন!
সত্যজিতের ঘনিষ্ঠদের মতে, নিজের ঘরে যখনই লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন সত্যজিৎ, তখন সেই ঘরে ঢুকতে মানা ছিল। এই একটা সময় তিনি না কারও সঙ্গে দেখা করতেন, না কারও ফোন ধরতেন। ইজি চেয়ারে বসে, হাঁটু গুটিয়ে সেই হাঁটুর ভাজেই কাগজ বা টাইপ রাইটার রেখে লেখালেখি করতেন পরিচালক। এমনকী, সত্যজিতের জনপ্রিয় স্কেচ বা ছবি আঁকগুলোও নাকি ওই ভাবে বসেই তিনি এঁকেছিলেন।
তা কেন টেবিল-চেয়ারে কাজ করতে চাইতেন না সত্যজিৎ?
একবার এক সাক্ষাৎকারে সত্যজিৎ জানিয়ে ছিলেন, ”নিজের সৃষ্টিকে যত সামনে থেকে দেখব, ততই ভুল সংশোধন হবে। হাঁটুর ভাজে রেখে কাজ করলে, খুব সহজেই তা হয়। আর সবচেয়ে বড় বিষয়, এভাবেই আমার একাগ্রতা বজায় থাকে।” আসলে সত্যজিৎ সব সময়ই একটা প্যাটার্নের উপর নির্ভর করতেন। তাঁর অভ্যাসই ছিল, এক নিয়মে এগিয়ে চলা। তাই প্রথম থেকেই সত্যজিৎ নিজের কাজকে নির্ভুল করার জন্য কোনও আপোসেই যেতেন না। আর তার প্রমাণ টেবিল ছেড়ে, হাঁটুর ভাজে খাতা রেখে ছবি আঁকা বা চিত্রনাট্য লেখা।