EXPLAINED: সর্ষের মধ্যেই ভূত! ভুয়ো ভোটার ঢোকানোর পিছনে রাজ্যের অফিসারের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ - Bengali News | EXPLAINED: How govt officers are involved in fake voters case in election commission - 24 Ghanta Bangla News
Home

EXPLAINED: সর্ষের মধ্যেই ভূত! ভুয়ো ভোটার ঢোকানোর পিছনে রাজ্যের অফিসারের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ – Bengali News | EXPLAINED: How govt officers are involved in fake voters case in election commission

Spread the love

মাস কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার লিস্ট নিয়ে সরব হয়েছিলেন। জেলায় জেলায় ভুয়ো ভোটার ধরতে নেতাদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ ছিল ভিনরাজ্যের ভোটাররা বাংলার ভোটার লিস্টে নাম তুলছেন। সেই সময় কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসে। অভিযোগ ওঠে, অনেকেই বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসে ভারতীয় ভোটার কার্ড বানিয়ে ফেলেছেন। সেই সময় প্রশাসনিক কর্মীদের একাংশকেই নিশানা করেন একাধিক নেতা-মন্ত্রী। এবার শুরু হয়েছে এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার তোড়জোড়। তার আগেই সর্ষের মধ্যে বেরিয়ে এল ভূত! কমিশনের মধ্যেই ঘটছে বেনিয়ম!

সরকারি কর্মীদের একাংশকেই তোপ দাগেন শাসকদলের নেতারা

কাকদ্বীপের তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা বলেছিলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এরা এখানে আসে। আর কিছু দালাল চক্র আর কাকদ্বীপের এসডিও, বিডিও অফিসের লোকজন এই অনিয়ম করেছেন। তাদের প্রশাসন খুঁজে বের করুক। এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার গল্প। অর্থের বিনিময়ে এই কার্ড বানিয়েছে।”

বাংলায় SIR-এর তোড়জোড় শুরু হতেই উঠল নয়া অভিযোগ

বিহারে ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর প্রথম পর্বে প্রায় ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে বাংলাতেও যে কোনও সময় শুরু হতে পারে এসআইআর। শুরু হওয়ার আগেই শাসক-বিরোধী দুই পক্ষেরই নানা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে। আর সেই অভিযোগের মাঝেই আঙুল উঠল খোদ সরকারি কর্মীদের দিকেই।

পরপর ERO-দের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওঠে

ভোটার তালিকায় অবৈধ ভোটারদের নাম কী করে এল, তা জানতে দুই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও-কে তলব করা হয়েছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। সিইও দফতরের তরফ থেকে জানানো হয়, তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। প্রথমে ময়না ও বারুইপুর, পরে নন্দকুমার ও রাজারহাট-গোপালপুরের ইআরও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তাঁদেরকেই তলব করা হয়েছিল।

অভিযোগটা ঠিক কী?

অভিযোগ ছিল, সরাসরি ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, এমন অনেকের আদতে কোনও অস্তিত্বই নেই। এমনকী ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদনের সময় যে সমস্ত তথ্য জমা দিতে হয়, সেগুলিও অবৈধ। এই অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে অনলাইনে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা হল! এই বিষয়ে জানতেই প্রথমে ময়না ও বারুইপুরের ইআরও-কে তলব করা হয়েছিল। পরে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার ও উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুরের ইআরও-কে তলব করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। গাফিলতি প্রমাণিত হলে ERO-দের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। নন্দকুমারে ৫৯ জন এবং রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভায় ৪৩ জনের নামের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ। 

অভিযোগ উঠেছে, নন্দকুমার ও রাজারহাট-গোপালপুরের দায়িত্বে থাকা ERO-রা তাঁদের নিজেদের যে আইডি রয়েছে, সেটা শেয়ার করে দিতেন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের । আর সেই আইডি দিয়েই নাম নথিভুক্ত হয়ে যেত। অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণের কাজে এই দুই ERO-ই যুক্ত রয়েছেন বলে, মনে করছেন কমিশনের আধিকারিকরা।

অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু

রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর তোলা অভিযোগেই প্রথম সামনে আসে বিষয়টি। পরে তলব করেন সিইও। শুভেন্দু দাবি প্রথম ময়না ও বারুইপুরের ইআরও-দের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে আনেন। শুভেন্দুর দাবি, কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র এসডিও-দের ইআরও করা যায়। কিন্তু এই দুই জায়গাতেই ডিএম-দের ইআরও করা হয়েছে, যারা প্রোমোটেড ডব্লুবিসিএস অফিসার।

নাম আসে বিএলও ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের নামও!

কমিশন সূত্রে জানা যায়, ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের মাধ্যমে সরাসরি এই অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়েছিল। যে আধার কার্ড ও প্যান কার্ড ব্যবহার করা হয়, সেটাও যথাযথ ছিল না। সংশ্লিষ্ট ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিরুদ্ধে FIR-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। শুধু তাই নয়, প্রশ্ন ওঠে ব্লক লেভেল অফিসার বিএলও-রা কি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেননি? সূত্রের খবর, বিএলও-দের পাঠানোই হয়নি ওই তথ্য় বা নথি।

কী বলছে কমিশন?

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে কমিশনের তরফে। রাজ্যের চারটি জায়গার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার সুপারিশ করেছে কমিশন। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে সেই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। মঙ্গলবার ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার, বারুইপুর পূর্বের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, বারুইপুর পূর্বের এইআরও তথাগত মণ্ডল ও ময়নার এইআরও সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সুরজিৎ হালদার নামে ডাটা এন্টি অপারেটরের বিরুদ্ধেও এফআইআরের সুপারিশ হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, বিভিন্ন বিধানসভায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যে আবেদন জমা পড়ে, তার জন্য ৬ নম্বর ফর্ম ফিল আপ করতে হয়। সেই ফর্মের মাত্র ১ শতাংশ যাচাই করাতেই ধরা পড়েছে গলদ। জেলাশাসকদের চিঠি দিয়েছেন সিইও। এক বছরের নথি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ১৪ অগস্টের মধ্যে জমা দিতে হবে সেই রিপোর্ট। সেখানে কোনও অস্থায়ী কর্মীকে যুক্ত করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারা ইআরও, কী কাজ ERO-দের

নিয়ম অনুযায়ী, এসডিও বা ডব্লুবিসিএস স্তরের যে কোনও আধিকারিক এই ERO হিসেবে কাজ করতে পারেন। বিএলও রা আবেদন বা নথি গ্রহণ করার পর, তা খতিয়ে দেখেন এই আধিকারিকরা। এরপর অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও কথা বলেন এরা।

‘সব ERO খারাপ নয়’, বলছে বিজেপি, পাল্টা অভিযোগ তৃণমূলের

বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই সরকারের অফিসারদের একাংশ রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশ ভোটারদের নাম তালিকায় তুলতে তৎপর হচ্ছে। তবে সব ইআরও খারাপ নয়। অধিকাংশই শাসক দলের চাপের মুখে দাঁড়িয়েও অনেকে তৎপরতার সঙ্গে, সততার কাজ করছেন, আমরা জানি। তাঁর কথায়, এটা পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচানোর লড়াই। গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই।”

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মিশ্র বলেন, “নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। তারা সরকারি কর্মীদের মধ্যে ত্রাস তৈরির চেষ্টা করছে। শুভেন্দুর হুকুম অনুযায়ী কাজ করছে। এর ফল ভবিষ্যতে ভাল হবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *