বাঙালি নির্যাতনের ভুয়ো ভিডিয়ো ডিলিট করলেন পার্থ, দায় চাপালেন মতিয়ার মিয়ার ঘাড়ে
হরিয়ানার গুরুগ্রামে বাঙালিদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে বলে দাবি করে যে ভিডিয়ো তিনি পোস্ট করেছিলেন সেটি ভুয়ো। স্বীকার করে ভিডিয়ো ডিলিট করলেন কোচবিহারের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ পার্থপ্রতীম রায়। বুধবার ভিডিয়োটি ডিলিট করে পার্থপ্রতীম রায় লিখেছেন, সেটি অন্য ঘটনার ভিডিয়ো।
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন পার্থপ্রতীমবাবু। তাতে দেখা যায়, একজন মহিলাকে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছেন কয়েকজন। সেই মহিলা উঠতে না চাওয়ায় তাঁকে লাঠি দিয়ে জোরে জোরে আঘাত করা হচ্ছে। এই ভিডিয়ো পোস্ট করে পার্থপ্রতীমবাবু দাবি করেন গুরুগ্রামে বাঙালিদের ওপর এভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে।
কিন্তু বুধবার বদলে যায় ঘটনাক্রম। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সেই ছবি ডিলি করে পার্থপ্রতীম লেখেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্য হরিয়ানায় গুরুগ্রামে থেকে কোচবিহারের একজন পরিযায়ী শ্রমিক ( মতিয়ার মিয়া) এই ভিডিওটি পাঠালেন এবং আমায় জানালেন সেখানে বাংলাভাষী কিছু মানুষকে বাংলাদেশী সন্দেহে অমানবিকভাবে হরিয়ানা পুলিশ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা যদি মতিয়ারের কথা অনুযায়ী সত্যি হয় তাহলে ধিক্কার জানাই। ( এই ভিডিওর সত্যতা আমি যাচাই করি নি)।
আমি কিছুক্ষণ আগে জানতে পারি এই ভিডিওটি হরিয়ানার অন্য একটি ঘটনার। তাই ভিডিওটি তুলে নিলাম। কিন্তু এটা ঠিক হরিয়ানার গুরুগ্রাম জুড়ে বাঙ্গালী শ্রমিকদের উপর হয়রানি চলছে।’
প্রশ্ন উঠছে, দায়িত্বশীল পদে আসীন একজন ব্যক্তি ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই না করে পোস্ট করলেন কেন? এতে যে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি ছড়াল তার দায় কি তিনি নেবেন? কোনও ব্যক্তি ভুল করেও কোনও বিভ্রান্তিকর ভিডিয়ো পোস্ট করলে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে গ্রেফতার করে। এক্ষেত্রে কি পার্থবাবুর বিরুদ্ধে তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হবে?