পুজোর আগে কলকাতায় হকারি ব্যবস্থার চেহারা, বড় পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার
অগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কলকাতার রাস্তাঘাটে হকারি আর আগের মতো থাকবে না। ১৬ অগস্ট থেকে চালু হচ্ছে কিউআর কোড যুক্ত ডিজিটাল ভেন্ডিং সার্টিফিকেট। এর মাধ্যমে পুরসভার নিয়ন্ত্রণে আসবে শহরের ফুটপাতের বেচাকেনা। কলকাতা পুরসভার এই নতুন উদ্যোগে পুজোর আগে বদলে যেতে চলেছে হকারি ব্যবস্থার চেহারা।
আরও পড়ুন: হকারদের দাপটে প্রায় বন্ধ গির্জার প্রবেশপথ, প্রশ্নের মুখে পড়তেই অভিযান পুলিশের
জানা যাচ্ছে, আগামী ১৬ অগস্ট থেকে কলকাতায় শুরু হচ্ছে হকারদের ডিজিটাল ভেন্ডিং সার্টিফিকেট বিতরণ। কলকাতা পুরসভার টাউন ভেন্ডিং কমিটির (টিভিসি) বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। প্রথম দফায় ৮,৭২৭ জন হকারকে দেওয়া হবে কিউআর কোডযুক্ত শংসাপত্র। এতে হকারের নাম, ব্যবসার ধরন, বরাদ্দ জায়গার বিবরণসহ যাবতীয় তথ্য থাকবে। কিউআর কোড স্ক্যান করলেই এই তথ্য দেখা যাবে। কেউ জায়গা ভাড়া দিলে বা স্টল বিক্রি করলে তা সহজেই শনাক্ত করা যাবে।
পুরসভা জানিয়েছে, এই শংসাপত্রের মাধ্যমে বেআইনি দখল ও স্টল বিক্রির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। প্রতিবছর ৮০০ টাকা দিয়ে এই শংসাপত্র নবীকরণ করতে হবে। ২০১৫ সালের সমীক্ষা ও সম্প্রতি হওয়া নতুন তালিকার ভিত্তিতে যাঁরা নিয়ম মেনে নির্ধারিত জায়গায় ব্যবসা করছেন, প্রথম পর্যায়ে তাঁদের এই শংসাপত্র দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মোট ৫৪,১৭৮ জন হকারকে চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১৪ হাজারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে থেকে ৮,৭২৭ জনকে শংসাপত্র দেওয়া হবে। পুরসভা জানিয়েছে, এই শংসাপত্র ব্যবহার করে হকাররা প্রয়োজন হলে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণও নিতে পারবেন। একই সঙ্গে নিউমার্কেট, ধর্মতলা, চাঁদনি চক প্রভৃতি এলাকায় প্রতিদিন অভিযান চালাবে পুরসভা, টিভিসি ও পুলিশ। লক্ষ্য, রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত হকার বসা বন্ধ করা। এরফলে রাস্তায় যানজট যেমন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পথচারীদের ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গিয়ে সমস্যা হবে না।