বিঘার পর বিঘা জমি জলের তলায়, ক্ষতিপূরণ মিলবে তো! দুশ্চিন্তায় ঘাটালের কৃষকরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

বিঘার পর বিঘা জমি জলের তলায়, ক্ষতিপূরণ মিলবে তো! দুশ্চিন্তায় ঘাটালের কৃষকরা

Spread the love

টানা বর্ষণ আর নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় ডুবে গিয়েছে ঘাটাল ও চন্দ্রকোণা মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। একের পর এক গ্রামের চাষের জমি জলের তলায়। যে জমিগুলোতে কদিন আগেও তিল আর পাট দাঁড়িয়ে ছিল মাথা উঁচু করে, আজ সেই জমিগুলোতে জল থৈ থৈ করছে। অনেক জমিতে ফসল তোলার মতো অবস্থা তৈরি হলেও তার আগেই নেমে আসে দুর্যোগ। ফলে দুশ্চিন্তায় মাথায় হাত সেখানকার চাষীদের। এই অবস্থায় তাঁরা ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না তানিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। (আরও পড়ুন: জেলায় জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, সঙ্গে বইবে ঝোড়ো হাওয়া, জারি সতর্কতা)

আরও পড়ুন: বন্যা পরিস্থিতি ‘ম্যান মেড’, সরব মমতা, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের সময় বেঁধে দিলেন

জানা যাচ্ছে, সবচেয়ে বিপর্যস্ত চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের গ্রামগুলি। শিলাবতী নদীর বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা জলমগ্ন। কামারগেড়িয়ার কাছে কেঠিয়াখালের বাঁধ ভাঙার পর জল ঢুকেছে মনোহরপুর ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অনেক গ্রামে। প্রায় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত। কেউ তিল, কেউ ধান, কেউ বা পাট চাষ করেছিলেন। সবই শেষ। সরকারি সাহায্যের আশায় বসে রয়েছেন তাঁরা। এক চাষির কথায়, তিনি কয়েক বিঘা জমিতে তিল করেছিলেন। আগেই ফলন উঠেছিল। এখন সব পচে গিয়েছে। এক ছটাকও ঘরে তুলতে পারেননি। চোখের জল মুছতে মুছতে আরেক কৃষক বলেন, ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেন। এখন না আছে ফসল, না আছে অন্য উপায়। ঋণ মেটানোর কথা তো পরে, এখন কী খাবেন সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। (আরও পড়ুন: ২৫% বকেয়া ডিএ মেটাবে না সরকার? ঘটনাক্রমে এল নয়া মোড়, মাথায় হাত পড়বে কর্মীদের?)

উল্লেখ্য, তিন বছর আগেও বন্যা হয়েছিল। তখনও ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি মিলেছিল। কিন্তু অনেকেই সেই টাকা পাননি। সেই ভয় এবারও তাড়া করছে কৃষকদের। এক বৃদ্ধ চাষি বলেন, ‘আবেদন করেও টাকা পাইনি তখন। এবার পাবো কি জানি না।’ এদিকে চন্দ্রকোণার বিধায়ক অরূপ ধাড়া আশ্বাস দিয়েছেন, ক্ষতিপূরণ অবশ্যই দেওয়া হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী সব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকই সরকারি সহযোগিতা পাবেন বলে জানান তিনি।

ঘাটালের পরিস্থিতি ঘিরে সেচমন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া বৈঠক করেন মহকুমাশাসকের দফতরে। তিনি বলেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ চলছে। উন্নয়ন হবে, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। তবে এই প্রতিশ্রুতির মধ্যেও কৃষকদের একটাই প্রশ্ন, যদি সময়মতো ক্ষতিপূরণ না মেলে, তাহলে তাঁরা কীভাবে বাঁচবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *