Explained: মুক্ত বাণিজ্য থেকে হাতিয়ার! যেভাবে ভারতের 'বন্ধু' হয়েছে বামপন্থীরা - Bengali News | How the relationship between India Russia Developed Over Ages - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: মুক্ত বাণিজ্য থেকে হাতিয়ার! যেভাবে ভারতের ‘বন্ধু’ হয়েছে বামপন্থীরা – Bengali News | How the relationship between India Russia Developed Over Ages

Spread the love

কলকাতা: রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সখ্যতা আজকের নয়, ১৯৪৭- এ স্বাধীনতার সময় থেকেই। আজ ব্রহ্মস-এর মতো বিধ্বংসী মিসাইল বা এস-৪০০ সুদর্শনের মতো ডিফেন্স সিস্টেমই নয়, বহু সু ও দুঃসময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত ও রাশিয়া। সাধে কী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতবছর মস্কো সফরে গিয়ে রাশিয়াকে ভারতের সবসময়ের সঙ্গী, ভরসাযোগ্য ‘দোস্ত’ বলে অভিহিত করেন? মোদী ও পুতিনের বন্ধুত্বও বেশ গভীর। বারবার একাধিক ঘটনাতে তার প্রমাণও মিলেছে। দুই দেশ ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সেই বন্ধুত্বই আজ একবার ঘুরে দেখা যাক।

১. এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেমকে যখন আমেরিকা নিষিদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল, প্রায় একঘরে করে ফেলছিল রাশিয়াকে, তখনই যোগ্য বন্ধুর মতো মস্কোর পাশে দাঁড়ায় দিল্লি। ২০২৩-এ রেকর্ড ৬৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তি হয় দুই দেশের মধ্যে। সবচেয়ে বড় কথা, এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেমকে যখন আমেরিকা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারিতে ব্যস্ত, তখন মার্কিন চোখ রাঙানি সত্ত্বেও রাশিয়ার কাছ থেকে একের পর এক সামরিক সরঞ্জাম কেনে ভারত।

২. সমুদ্রপথে রুশ তেলের প্রায় ৭০ শতাংশের গ্রাহক একা ভারতই। ইউক্রেনে যুদ্ধের পর পশ্চিমী দেশগুলির নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারতকে কম দামে তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেয় মস্কো। সেই থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেলের বড় অংশই রাশিয়ার কাছ থেকে আমদানি করা।

৩. ভারত ও রাশিয়া দুই দেশই ডলারের উপর থেকে নির্ভরতা কমাতে চায়। যে কারণে, আজ দুই দেশই নিজস্ব মুদ্রায় ব্যবসায় সম্মত হওয়ার পথে এগোচ্ছে। আইএমএফ বা ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের দ্বিচারিতা ও দাদাগিরির বিরুদ্ধে দুই দেশই সহমত পোষণ করে।

৪. ভারত ও রাশিয়া দুজনেই ইউএন, ব্রিকস, জি-২০, এসসিও-র মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনের অংশ। ভারতকে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য করতে রাশিয়া সমর্থন স্পষ্ট করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের ভোটাভুটির সময়ও ভারত বিরত থাকে।

৫. আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত-রাশিয়ার বন্ধুত্বের স্পষ্ট বার্তা দেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ইউক্রেনে হামলা করায় যখন রাশিয়ার কাছ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস কেনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ, তখন জয়শঙ্কর প্রকাশ্যেই বলেন, গোটা ইউরোপ রাশিয়ার কাছ থেকে গ্যাস কেনে, অনেক বেশি কেনে। একা ভারত কিনলেই দোষ? সস্তায় পেলে ভারত কিনবেই।

৬. কথায় বলে, হিস্ট্রি রিপিটস! ১৯৭১-এ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পশ্চিম পাকিস্তানের সমর্থনে আমেরিকা ও ব্রিটেন ভারতকে ঘিরে ফেলতে তাদের নামজাদা সব রণতরী পাঠায়। ভারত বার্তা পাঠায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডমিরাল ভ্লাদিমির ক্রুগলিয়াকভের নেতৃত্বে বঙ্গোপসাগরে হাজির হয় পরমাণু শক্তিধর রুশ যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন। ভয়ে পালায় মার্কিন ও ব্রিটিশ রণতরী। একইভাবে আজও অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাক সেনার যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও মিসাইল হামলার হাত থেকে ভারতকে ঢাল হয়ে রক্ষা করল রুশ এস-৪০০।

৭. প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ভারতের অর্থনীতি আন্তর্জাতিক মহলে এক নয়া ভারসাম্য তৈরি করেছে। বিশ্বকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, শুধু আমেরিকা বা ইউরোপ কেন্দ্রিক অর্থনীতি বিশ্বকে আগামী দিনে দিশা দেখাবে না। দেখাবে ভারতের মতো এশিয়ান দেশ। ঠাণ্ডা যুদ্ধের আমল থেকেই ব্যবসা, সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে রাশিয়াকে সবসময় পাশে পেয়েছে ভারত। ইউএন নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্বার্থরক্ষায় ‘ভেটো’ প্রয়োগ করেছে মস্কো। IRIGC বা ইন্দো-রাশিয়ান ইন্টারগভর্মেন্টাল কমিশনের মাধ্যমে দুই দেশ অন্তত ৫টি বৃহৎ ক্ষেত্র যেমন, মহাকাশ বিজ্ঞান, প্রতিরক্ষা, নিউক্লিয়ার এনার্জি, সন্ত্রাসবাদ রোধে একসঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে।

দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে বন্ধুত্বও সুবিদিত। গতবছরের অক্টবরে ১৬তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দুই রাষ্ট্রনেতার যখন কথা হচ্ছিল, তখন পুতিন বলেন, মোদীর ভাষা বুঝতে তাঁর নাকি অনুবাদকও লাগে না। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের সঙ্গেই গভীর যোগাযোগ রেখে চলছিল ভারত। এছাড়াও রুশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সবচেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারত। ১৯৬২ থেকে মিগ-২১-এর প্রযুক্তি ভারতকে সরবরাহ করে রাশিয়া। ১৯৭১-এ দুই দেশের মধ্যে ইন্দো-সোভিয়েত ট্রিটি অফ ফ্রেন্ডশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন স্বাক্ষরিত হয়। যে কারণে ভারতকে রণতরী পাঠিয়ে সাহায্য করে মস্কো। সে কথা আগেই বলেছি। মস্কোয় ভারতীয় দূতাবাস রয়েছে। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের মতে, ৮৫ শতাংশ রুশ নাগরিকই ভারতকে বন্ধু হিসাবে দেখেন। আশির দশক থেকেই অভিনেতা রাজ কাপুর ও পরে মিঠুন চক্রবর্তী রাশিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *