Pahalgam Attack: পাকিস্তানকে ভাতে মারতেই সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল, ঠিক কী কী সমস্যায় পড়বে পাকিস্তান? – Bengali News | Pahalgam attack If the Indus Water Treaty is annulled to beat Pakistan, what exactly will be the problem for Pakistan?
শিলিগুড়ি: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা এফেক্ট! মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে ধাপে ধাপে বৈঠক হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে, যেখানে কার্যত ভারত পাকিস্তান সীমান্ত বন্ধ হতে চলেছে, তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করতেই দৃশ্যত মাথায় হাত পড়েছে পাকিস্তানের। পাকিস্থানকে ভাতে মারতেই সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল, বলছেন ভুগোলবিদরাই। ঠিক কী কী সমস্যায় পড়বে পাকিস্তান?
বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বরে করাচিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। চুক্তি অনুসারে, সিন্ধু এবং তার দুই উপনদী, বিতস্তা (ঝিলম) ও চন্দ্রভাগার (চেনাব) জলের উপরে অধিকার ও কর্তৃত্ব থাকবে পাকিস্তানের।
ভুগোলবিদদের মতে, সিন্ধু চুক্তি বাতিল হলে পাকিস্থানের ৬১ শতাংশ জনসংখ্যায় প্রভাব পড়তে বাধ্য। যে এলাকা দিয়ে এই নদী গিয়েছে তা অন্তত পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিকাজকে উপকৃত করত। জলচুক্তি বাতিল হওয়ায় কৃষিকাজ যেমন ব্যহত হবে, তেমনি যে শহুরে এলাকা দিয়ে সিন্ধু ও তার শাখানদী, উপনদী এগিয়েছে সেখানকার (করাচি, লাহোর, মুলতান) পানীয় জলপ্রকল্প সঙ্কটে পড়বে। পাকিস্থানে সিন্ধু অববাহিকায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যাপক ভাবে ব্যাহত হতে পারে। ফলে সব মিলিয়ে হাতে নয়, কার্যত ভাতে মরতে পারে পাকিস্তান। ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকবে সিন্ধুর তিন উপনদী— বিপাশা (বিয়াস), শতদ্রু (সাতলেজ়) এবং ইরাবতীর (রাভি) জলের উপর। অর্থাৎ সিন্ধু ও তার উপনদী-শাখা নদীর জলের ওপরে পাকিস্তানের অধিকার থাকবে ৮০ শতাংশ, ভারতের ২০ শতাংশ। এই চুক্তির অন্যতম শর্তই ছিল, ভারত বা পাকিস্তান নিজেদের প্রয়োজনে ওই জল ব্যবহার করলেও কোনও অবস্থাতেই জলপ্রবাহ আটকে রাখতে পারবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিন্ধু চুক্তি বাতিল হলে পাকিস্থানের ৬১ শতাংশ জনসংখ্যায় প্রভাব পড়তে বাধ্য।
ইতিমধ্যেই ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘জল-যুদ্ধ’ হিসাবে দেখতে শুরু করেছে পাকিস্তান সরকার। পাক বিদ্যুৎমন্ত্রী আওয়াইস লেখরি সমাজমাধ্যমে এমনটাই দাবি করেছেন। একই সুর শোনা গিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের বিদেশ উপদেষ্টা সরতাজ আজ়িজ়ের গলাতেও।
জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের তরফ থেকেও একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেটি মূলত পাকিস্তানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির সঙ্গে বৈঠক। বুধবার দফায় দফায় বৈঠকের পর ভারত যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তথা অর্থনৈতিক বিষয়টিও সরাসরিভাবে ধাক্কা খাবে।
