Ram Navami Explained: রাম রাম সত্য হ্যায়...ছাব্বিশ দূর নেহি হ্যায় - Bengali News | 2026 assembly elections as the year turns, which political party will get fruitful result from Ram Navami, analysis - 24 Ghanta Bangla News
Home

Ram Navami Explained: রাম রাম সত্য হ্যায়…ছাব্বিশ দূর নেহি হ্যায় – Bengali News | 2026 assembly elections as the year turns, which political party will get fruitful result from Ram Navami, analysis

Spread the love

চর্চা চলছে পুরোদমে Image Credit source: Getty Images

রাম নামে জোরদার রাজনীতি! কেউ বললেন হিন্দুরা জাগছে, কেউ বললেন দেরিতে হলেও জাগছে দেখে ভাল লাগছে। রামনবমী নিয়ে গোটা রাজ্যই এখন কার্যত হটস্পট হয়ে উঠেছে। রাজনীতির দড়ি টানাটানি থেকে রামনামে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার প্রতিযোগিতা। রামনবমী পালন এবার রাজ্যে এতটাই অগ্রাধিকার পেল যে, ২৬ হাজার চাকরি বাতিল নিয়ে আন্দোলনও আপাতত স্থগিত রাখল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল! শাসকদলও আগ্রহী রামনবমী উদযাপনে। বহু নেতাকেই দেখা গেল রাস্তায়। কেউ কেউ আবার বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে এক মিছিলেও হাঁটলেনও। যা দেখে কেউ বললেন রাজনৈতিক ‘সম্প্রতি’। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যদিও বলছেন, বাংলায় হিন্দু ঝড় আসছে। রাজনীতি রামময় হবে, আশাবাদী শুভেন্দুর সতীর্থ দিলীপ ঘোষেরও। ছাব্বিশেই রাম-রাজত্ব, অত্যন্ত আশাবাদী সুকান্ত মজুমদার।

দিনভর অস্ত্রের ঝনঝনানি 

গদা, তোলায়ার, কাটারি, রামদা, এয়ার গান! ভোটের যখন ঠিক আর একটা বছর বাকি তখন অস্ত্র ৬ এপ্রিল দিনভর অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনল গোটা বাংলা। গত কয়েক বছর রাম নবমীর দিন এ ছবি দেখা গেলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ বলছেন এবার যেন তীব্রটা অনেকটাই বেশি। যা শুনে আবার অনেকেই বলছেন, শুভেন্দু অধিকারীই তো দেড় কোটি হিন্দুকে পথে নামার ডাক দিয়েছিলেন। তারই প্রতিচ্ছবি দেখা গেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঝন্টু বরাইকও বলছেন, “যত সামাজিক ইস্যু বাদ রেখে এই দুর্ভাগা বঙ্গে ধর্ম নিয়ে রাজনীতির পরিমণ্ডল তৈরি হচ্ছে তত বিজেপির ভোট বাড়ছে।” তবে আশঙ্কার কথাও শোনা গেল তাঁর মুখেও। অস্ত্র নিয়ে যখন চাপানউতোর পুরোদমে চলছে গোটা রাজ্যে তখন অস্ত্র মিছিলের পক্ষেই জোর গলায় সওয়াল করলেন বিজেপি নেতারা। বীরভূমের সিউরিতে খেলনা বাজেয়াপ্ত করতে দেখা গেল পুলিশকে।  

আসানসোলে রাম নবমীর অনুষ্ঠানে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তলোয়ার উঁচিয়ে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে দেখা যায় বিজেপি বিধায়ককে। পুরুলিয়ায় তোলোয়ার হাতে রাস্তায় নামেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। অস্ত্রের পক্ষে সওয়াল করে সাফ বললেন, “ভগবান শ্রী কৃষ্ণের হাতে কী আছে, মা দুর্গার হাতে কী আছে? আমরা প্রভু রামচন্দ্রের ভক্ত। উনি যে আদর্শ শিখিয়েছেন তা আমরা পালন করছি ধর্ম রক্ষার জন্য।” অগ্নিমিত্রা বললেন, “অস্ত্র মানুষ নিজেকে, পরিবারকে, সমাজকে রক্ষা করতে হাতে তোলে। আজকে পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করতে ভাই-বোনেরা তাঁরা আমার হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন প্রতীকী হিসাবে।” রাম নবমীর সকালে গদা মিছিলে হাঁটেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার, বাঁকুড়ার রাস্তাতেই লাঠি খেলা দেখাতে দেখা যায় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলছেন, “লাঠি খেলা আমার ছোট থেকে শেখা। কিন্তু কোনওদিন দেখানোর প্রয়োজন মনে করেনি।” এদিকে বীরভূমের সাঁইথিয়া, রামপুরহাট, ঝাড়গ্রামের জামবনি, শিলিগুড়ি সহ বহু জায়াগাতেই অস্ত্র হাতে এদিন মিছিলের ছবি দেখা যায়। বীরভূমে মিছিলের সঙ্গে ছিল তলোয়ার, এয়ার গানও। শেষ পর্যন্ত খেলনা বন্দুক বাজেয়াপ্তও করে পুলিশ। 

২৬ হাজার চাকরি বিতর্ক উধাও?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঝন্টু বরাইক বলছেন, “রাম চর্চা বাংলার ইতিহাসে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আছে। রাম হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ভারতের অন্তর-আত্মার প্রতীক। এটা অস্বীকারের জায়গা নেই। রবি ঠাকুরও রামের উপরে একাধিক রচনায় তাঁকে মর্যাদাপুরোশত্তমের তকমা দিয়েছেন। কিন্তু রামের সঙ্গে অস্ত্রের সংযোগটা কোথায় পাওয়া গেল? রাম ক্ষত্রিয়। উগ্র হিন্দুত্বের প্রতীক। কিন্তু, তারপরেও রামের কোমল সত্ত্বায় কোথাও অস্ত্রের কোনও বর্ণনা কৃত্তিবাস, কালীদাস কোথাও নেই। কিন্তু এখন অস্ত্রের দাপাদাপি হচ্ছে ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতিতে শান দেওয়া, ভোট অস্ত্রে শান দেওয়া। নিজের সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি করে ভোট অবধি বয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাই বিরোধী দলের বিধায়ককে বলতে হচ্ছে যদি আটকানো হয় তাহলে ভোট অবধি মিছিল হবে।” এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, “বিরোধী নেতা হিসাবে যদি রাম চন্দ্র রাজ্যে থাকতেন তাহলে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হলে তিনি তাঁদের পাশে না থেকে কেক কেটে নিজের জন্মদিন পালন করতেন? অস্ত্র নিয়ে লাফালাফি করতে দিতেন তাঁর প্রজাদের? আমি বিশ্বাস করি না তিনি এমনটা করতেন। কারণ আমাদের নাম দয়ালু। ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের মতো ভয়ানক সামাজিক একটা অবক্ষয়ের পরেও বিরোধীদের কর্তব্য ছিল এদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু, অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনাতে শোনাতে তাঁরা বলছেন, আগে রাম নবমীটা যাক। তারপর ওরা আমরা ওদের দিকে এগোব।”  

খোঁচা দিতে ছাড়েনি তৃণমূলও 

এদিকে দিনভর তৃণমূলের অনেকেও রাস্তায় থাকলেও খোঁচা দিতে ছাড়েনি তৃণমূল। শুভেন্দুর যখন বলছেন, মমতার হিন্দু বিরোধী রাজনীতির বিরুদ্ধে হিন্দু ঝড় আসছে। তখন খানিক চিমটি কেটেই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে বলেছিল কোটি কোটি লোক নিয়ে হাঁটব। কোথায় গেল সেই গুন্ডাটা? ব্যাটা নন্দীগ্রামের গুন্ডা। গুন্ডামি করলেই মার খাবি। ওভাবে হিন্দু ভোট হয় না।”  তবে ছেড়ে কথা বলেননি শুভেন্দুও। সাফ বলেছেন, “যেদিন পশ্চিবঙ্গে শাসকের পরিবর্তন হবে তখন পশ্চিমবঙ্গে জেহাদিদের যেভাবে উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করতে হয় উত্তর প্রদেশের মতো সেটা আমরা করে দেখাব।” সুকান্ত বলছেন, “গতবার যারা পাথক মেরেছিল এবার তাঁদের বুকের উপর হেঁটে আমরা রামনবমী করেছি।”    

তবে পথে নামতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল নেতাদেরও। পুজো দিলেন শশী পাঁজা, মিছিলে হাঁটলেন কুলান ঘোষ থেকে শতাব্দী রায়, কাজল শেখ, শওকত মোল্লা সহ একাধিক হেভিওয়েটদের। তাহলে কী তৃণমূলও রামনবমীময়? সামগ্রিক চিত্র দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঝন্টু বারাইক যদিও অন্য প্রশ্ন তুলে দিচ্ছেন। বলছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক। সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়রিং তিনি ভাল বোঝেন। তিনি বোঝেন যে ৭০ শতাংশের কাছাকাছি যে বাঙালি হিন্দু আছে তাঁদের মন এত সহজে ধর্মীয় অন্ধত্বে বিগলিত হবে না। কিন্তু সমাজে ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে যে দ্বিচারিত চলছে তাতে বড় অংশের ভোটে প্রভাব পড়বে। যারা এতদিন ধর্মীয় অন্ধত্বের চর্চা করতো না তাঁরা যখন ধীরে ধীরে অন্ধ হিন্দুত্বের দিকে, কূপমণ্ডকতার দিকে ছুটছে তখন শাসক তৃণমূলকেও সফট হিন্দুত্বের চর্চা করতে হচ্ছে। এটা দিনে দিনে আরও বাড়বে। কারণ আপনি যখন একপক্ষে যাবেন, তখন আর এক পক্ষ বেড়ে উঠবে। এ কারণে এ দেশে ১৯০৫ সালে যখন মুসলিম লিগ তৈরি হল তখন ঠিক পাঁচ বছর পরে ভারতে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটার জন্ম হল।” 

ভোটের পাল্লা কার দিকে ভারী? 

ঝন্টুবাবু যদিও বলছেন, “বিজেপি ভোট বাড়ছে। এদের ভোট আরও বাড়বে। তৃণমূলের সঙ্গে ওদের ভোটের পার্থক্য মাত্র ৭ শতাংশ। আগামী নির্বাচনে যদি বিরোধী বিজেপি ধরে খেলতে পারে তাহলে এর সুফল তাঁরা তুলবে। মনে রাখবেন ২৬ হাজারের ইস্যুটা দগদগে ঘা। তৃণমূল এটাকে কোনওভাবেই সমাধান করতে পারবে না। আর অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাঙালি অন্ধকূপের দিকে ছুটে চলেছেন শাসক এটা আটকাতে পারবে না।”   

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *