Haldiram’s: এই কোম্পানির জন্ম দিলেও কেন যোগ্য স্বীকৃতি পাননি ‘হলদিরামের মাসি’, জানেন! – Bengali News | This Woman is the Reason behind Haldiram’s Success, How She Created 85000 Crore Fortune but No one Recognize her
নয়া দিল্লি: মিষ্টি থেকে নোনতা- যা চাইবেন, সবই পাবেন। ঘরে ঘরে সুপরিচিত নাম হলদিরাম। ভুজিয়ার বাজারে কার্যত সিংহাসনে বসে হলদিরাম। দিল্লি থেকে দুবাই- সর্বত্রই পাওয়া যায় হলদিরামের বিভিন্ন খাবার। ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে হলদিরাম। শূন্য থেকে শুরু হওয়া একটা ব্যবসা কীভাবে আকাশ ছুঁল, গোটা বিশ্ব নাম অর্জন করল, জানেন? এর পিছনে রয়েছে এক মহিলার বিশেষ অবদান। তিনি হলেন বিখি বাই। তাঁর হাত ধরেই আজ হলদিরাম এই উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিকানিরের সরু এক গলি থেকে উঠে এসেছিল হলদিরাম। তখন সাধারণ মানুষ ভুজিয়া সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতেন না। মুখরোচক খাবার হিসাবেও গণ্য করতেন না। হলদিরাম যার নামে, অর্থাৎ গঙ্গা বিষণ আগরওয়ালের মাসি বিখি বাইয়ের ভুজিয়া তৈরির শখ ছিল। বিখি বাই তাঁর পরিবারের বাচ্চাদের জন্য ভুজিয়া বানাতেন। তাঁর কাছে ভুজিয়া কোনও ব্যবসা ছিল না বরং একটি ঘরে তৈরি সাধারণ খাবার ছিল। কেবল বাড়িতে এটি তৈরি করতেন এবং হলদিরাম এবং তার ভাইদের খাওয়াতেন। বাচ্চারা বিখি বাইয়ের এই মশলাদার খাবার খুব পছন্দ করত।
লেখক পবিত্র কুমার তাঁর “ভুজিয়া ব্যারনস” বইতে লিখেছেন যে বিখি বাইয়ের শিশুদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে হলদিরামের দাদা ভিখারাম এবং তার স্ত্রীও পরে এটি তৈরি কর শিখে নেন। তিনি লিখেছিলেন, “বিখি বাই অজান্তেই এমন এক স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন, যা আগরওয়াল পরিবারের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল। এই মহিলাই ছিলেন হালদিরামের সাফল্যের আসল মূল কারিগর। তাঁর অনন্য ভুজিয়া কঠিন সময়ে পরিবারকে টিকিয়ে রেখেছিল এবং আজকের জলখাবার সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।”
তবে মাড়োয়ারি সংস্কৃতিতে পারিবারিক ব্যবসায় নারীদের খুব কমই স্বীকৃতি দেওয়া হত। বিখি বাইয়ের কাহিনিও এর জলজ্যান্ত উদাহরণ। তিনি পরিবারের দেখাশোনা এবং লালন-পালন করতেন। সরাসরি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সেই কারণেই হলদিরামের সাফল্যের গল্পে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয় না।
হলদিরামের দাদা ভিখারাম ১৯০৮ থেকে ১৯১৮ সালের মধ্যে ভুজিয়ার ব্যবসায় বিপুল সম্ভাবনা দেখেছিলেন এবং খবরের কাগজের ঠোঙায় ভুজিয়া বিক্রি শুরু করেছিলেন। হলদিরাম ১২ বছর বয়সে তাঁর মাসির কাছ থেকে ভুজিয়া তৈরি শিখেছিলেন। হলদিরাম রেসিপিতে সামান্য বদল করে বেসনের পরিবর্তে মুগের ডাল ব্যবহার করেন মুচমুচে ভুজিয়া তৈরি করেন, যা হিট হয়ে যান। ১৯৩৭ সালে তিনি বিকানিরে প্রথম দোকান খোলেন, যা আজ একটি বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
নোনতা এবং মিষ্টির ব্র্যান্ড হিসাবে হলদিরাম এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বড় বড় বিনিয়োগকারীরা এর শেয়ার কিনতে চান। সম্প্রতি, সিঙ্গাপুরের সরকারি বিনিয়োগ সংস্থা টেমাসেক ১ বিলিয়ন ডলারে হলদিরামের ১০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। কোম্পানির মূল্য বর্তমানে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৪ অর্থবর্ষে হলদিরামের বার্ষিক আয় ছিল ১২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি। ব্র্যান্ডটি ভারতের ৬.২ বিলিয়ন ডলারের স্ন্যাকস বাজারের ১৩ শতাংশ দখল করে রেখেছে। ৮০ টিরও বেশি দেশে হলদিরাম উপস্থিত রয়েছে।
