Kunal Ghosh: ‘যদি দ্রুত সমস্যা না মেটান তবে…’, কাদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন কুণাল? – Bengali News | TMC Leader Kunal Ghosh give message to 36 ward tmc councilor
কলকাতা: নারকেলডাঙায় মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সামনেই প্রকাশ্যে এসেছিল তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। সেই ঘটনায় রীতিমতো মুখ পুড়িয়েছে দলের। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না রাজ্যের শাসক দল। আর সেই কারণেই এবার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সচিন সিং এবং দলের আরেক নেতা তথা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর নেতা পাপ্পু খানকে ডেকে রীতিমতো সমঝে দিলেন রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। শনিবার সন্ধ্যায় দু’জনকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন তিনি।
সূত্রের খবর, বৈঠকে দু’জনকেই রীতিমতো তিরস্কার করেন কুণাল। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন মেয়রকে ঘিরে যা ঘটেছে, তা নিয়ে দু’পক্ষকেই ধমক দিয়ে তৃণমূল নেতা বলেছেন যে, দু’জন যদি দ্রুত নিজেদের সমস্যা না মিটিয়ে নেয়, তাহলে দলের তরফে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে। দলের মধ্যে এই কর্মীদের রেখে দলের ভাবমূর্তি কোনওভাবেই নষ্ট করা হবে না।” অপরদিকে, পাপ্পু খানকে সতর্ক করে বলা হয়, সচিন সিংয়ের কোনও কাজে যেন সে বাধা না দেন। ওয়ার্ডের মধ্যে কোনও গোষ্ঠী থাকবে না। একটাই গোষ্ঠী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী। দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মেয়রকে ঘিরে বিক্ষোভ বিষয়টি ভালভাবে নেননি, সেটাও সচিনকে স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন কুণাল।
পাপ্পু খানকে সতর্ক করে এও বলা হয়েছে, ওয়ার্ডের মধ্যে অবৈধ কাজকর্ম করলে কাউন্সিলরের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে সেগুলি আটকানো। কাউন্সিলরকে যেন সে ব্যাপারে সাহায্য করা হয়। সূত্রের খবর, অপরদিকে সচিনকে বলা হয়েছে, ওয়ার্ডের মধ্যে দলীয় অনুষ্ঠানে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পৃথক পৃথক কর্মসূচি নিলে সেটা দল অনুমোদন করবে না। এছাড়াও যে ধরনের ঝামেলা হচ্ছে তাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। কুণাল এ দিন কার্যত ধমকের সুরে বুঝিয়ে দেন, নারকেলডাঙ্গার ঘটনা একেবারে প্রকাশ্যে চলে আসায়, দলীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। সে কারণেই তিনি বৈঠকে বসে দুজনের মধ্যে মিটমাট করার চেষ্টা করেছেন।
প্রসঙ্গত, নারকেলডাঙার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল নতুন কিছু নয়। এরপর তা আরও বাড়ে আগুন লাগার ঘটনার পর। নারকেলডাঙায় আগুন লেগে ঝুপড়ি পুড়ে যাওয়ার পরের দিন ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখতে এলাকায় গিয়েছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই সময় মেয়রের সামনেই কাউন্সিলর সচিন সিংয়ের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগান দিতে শুরু করেন সচিনের বিরোধী গোষ্ঠীর দল। বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়তে হয় ফিরহাদ। সেই ঘটনার পর এবার সচিন ও পাপ্পুর অর্ন্তকলহ মেটাতে বসলেন কুণাল ঘোষ।
