লেট করে আসার শাস্তি! ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসের বাইরেই দাঁড় করিয়ে রাখলেন CEO – Bengali News | CEO Made Employees Stand Outside Office for Coming Late, Sparks Row
নয়া দিল্লি: স্কুলে দেরি করে আসলে শাস্তি হিসাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হত ক্লাসের বাইরে। কিন্তু অফিসে? সেখানে ৫-১০ মিনিটের বেশি লেট হলেই অর্ধেক ছুটি কেটে নেওয়া বা অতিরিক্ত সময় থেকে যাওয়ার বিষয় হয়ে থাকে। কিন্তু কখনও অফিসের বাইরে কর্মীদের দাঁড় করিয়ে রাখার কথা শুনেছেন? সত্যি সত্যিই এমনটা ঘটেছে। তাও আবার ভারতেরই একটি অফিসে। সংস্থার সিইও দেরি করে আসা কর্মীদের দাঁড় করিয়ে রাখলেন অফিসের বাইরে।
অফিসের নির্দিষ্ট সময়ে আসছে না অধিকাংশ কর্মীরা। তাদের সময়জ্ঞান ও নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দিতেই কোম্পানির সিইও এমন সিদ্ধান্ত নেন। অফিসে ঢোকার যে নির্দিষ্ট সময়, তা পার হতেই বন্ধ করে দেন অফিসের সমস্ত গেট। কর্মীরা একে একে এলেও কাউকে অফিসে ঢুকতে দেননি তিনি।
দুপুর ১২টায় দরজা বন্ধ করে দেওয়ার পর আর গেট খুলতে রাজি হননি সিইও। এমনকী যার আগেরদিন নাইট শিফ্টে বা অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করেছেন, তাদেরও ঢুকতে দেননি। শুনতে চাননি কোনও যুক্তি। শেষে প্রায় ঘণ্টাখানেক রোদে দাঁড় করিয়েই সময়ানুবর্তিতা নিয়ে জ্ঞান দেওয়ার পর কর্মীদের ঢুকতে দেন।
ওই সংস্থারই এক কর্মী রেডিটে অফিসের এমন আজব অভিজ্ঞতার কথা পোস্ট করেছেন। পোস্টে লিখেছেন, ‘স্কুলড বাই সিইও’। তিনি লেখেন, “স্কুলের দিনগুলোয় ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন সিইও। ভাগ্যক্রমে গতকাল আমি সঠিক সময়ে অফিস পৌঁছেছিলাম, তাই ভিতরে বসে সিইও-র এই কাণ্ড দেখতে পেলাম।”
ওই কর্মী জানিয়েছেন, তাদের অফিসে নির্দিষ্ট কোনও শিফট নেই। সকাল ৯টা থেকে ৬টা পর্যন্ত কাজ করেন সকলে সাধারণত, তবে কাজের চাপ থাকলে আরও দীর্ঘ সময় অফিসে থেকে যেতে হয়। এমনকী, প্রয়োজন হলে উইকএন্ডেও কাজ করতে হয়।
কর্মীদের এভাবে অফিসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা নিয়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কীভাবে অফিসের বস এমনভাবে কর্মীদের হেনস্থা করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্সের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
তবে ওই সিইও-র হঠকারিতা কিন্তু কর্মীদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখার মধ্যেই সীমীত নয়। তিনি নাকি এক কর্মীকে তাঁর অফিসের শেষ দিনে তাড়িয়ে দেন কারণ তাঁকে খুব খুশি দেখাচ্ছিল। আরেকজনকে চাকরি খোয়াতে হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য।
