ক্লাস এইট পাস! পাসপোর্ট জালিয়াতিতে হাত পাকিয়েছিল মনোজ, বাংলার মুখ
ক্লাস এইট পাস। তাতেই জাল পাসপোর্ট চক্র চালানোর অভিযোগ মনোজ গুপ্তার বিরুদ্ধে। একেবারে ফুলে ফেঁপে উঠেছিল ব্যবসা। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। পুলিশের জালে ধরা পড়েছে সেই মনোজ গুপ্তা।
তবে মনোজ গুপ্তার এই অবৈধ ব্যবসা সম্পর্কে মোটামুটি আঁচ করতে পারতেন পরিবারের লোকজন। তার পরিবারের লোকজন সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, বাড়িতে কিছু করত না। সব হত বাইরে। বন্ধুবান্ধবরা থাকত। তবে মনোজ গুপ্তা পড়াশোনা বেশি করেননি বলে খবর। তার পরিবারের দাবি, ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল মনোজ। এমনকী অভিযোগ, সে নাকি বাংলাদেশিদের ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে এই ইউরোপে যাওয়ার ভিসাও তৈরি করে দিত।
তার মা জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমে, আমাদের বলত তোমরা চুপ করে থাকো।। ওসব বাইরে করত।
এদিকে মাত্র ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনা। তাতেই জাল পাসপোর্ট তৈরির চক্র চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ।
ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে চলছিল জাল পাসপোর্ট চক্রের কারবার। এমনটাই অভিযোগ। অবশেষে ধরা পড়ল মনোজ গুপ্তা। রাজ্যে জাল পাসপোর্ট চক্রের অন্যতম পান্ডা মনোজ গুপ্ত।অভিযোগ এমনটাই। শনিবার রাতে তাকে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানা এলাকার চাঁদপাড়া থেকে গ্রেফতার করেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা।
ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে চলত কারবার। বাংলাদেশিদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে আধার, প্যান কার্ড তৈরি করা হত। এর পর ভোটার লিস্টে উঠত নাম। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে মনোজ একলা নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বিরাট চক্র। সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে বাড়ির লোকজন কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন যে মনোজ অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত। এনিয়ে তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও কথা কানে নেয়নি মনোজ।
পাসপোর্ট জালিয়াতি কাণ্ডের অন্যতম মাথা মনোজ। এমনটাই মনে করা হচ্ছে। ছেলে যে বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত তা আশপাশ থেকে শুনেছিলেন মা। তবে তিনি ছেলেকে বাড়িতে কোনওদিনই এই কাজ করতে দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে এর আগে বেহালার শীলপাড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল মনোজ। কিন্তু সেখানে সে ছিল না। শেষ পর্যন্ত চাঁদপাড়া স্টেশন চত্বর থেকে মনোজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সূত্রের খবর ধরপাকড় হচ্ছে জানতে পেরেই মনোজ গা ঢাকা দেয়। এদিকে সম্প্রতি একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন মনোজ। চাঁদপাড়ার ওই বাড়ির মহিলা ভাড়াটের কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন মনোজ। মহিলা দাবি করেছেন বাড়িতে অশান্তি হচ্ছে একথা জানিয়ে ভাইয়ের সূত্র ধরে ওই ব্যক্তি এসেছিলেন। কিন্তু তিনি মনোজকে চিনতেন না। সূত্রের খবর, এর আগে পাসপোর্ট জালিয়াতি কান্ডে গ্রেফতার করা হয়েছিল দীপঙ্কর দাসকে। সে ছিল মনোজের বেহালার এই ট্রাভেলের অফিসের কর্মী।