Ulu: ছেলেরা কেন উলুধ্বনি দেয় না জানেন? – Bengali News | Why men don’t shout uludhoni
পুজোর সময় ঠাকুর বরণ হোক বা বিয়ের আচার অনুষ্ঠান বা অন্য কোন ও শুভ কাজ। হিন্দু ধর্মের যে কোনও শুভ বা মাঙ্গলিক কাজেই প্রয়োজন উলুধ্বনি। উলুধ্বনি দেওয়া অপরিহার্য।
অনেকে অবশ্য এটিকে নিছক সংস্কার বলেও মনে করেন এখন। শাস্ত্র মতে কিন্তু উলুধ্বনির মাহাত্ম্য প্রবল।
উলুধ্বনির মাধ্যমে সন্তুষ্ট হন দেবতাগণ। দেবতারা প্রসন্ন হলে আশীর্বাদও পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস। কেবল দেবতাদের প্রসন্ন করতেই নয়, শাস্ত্র মতে উলুধ্বনি দিলে আরও নানা সুফল পাওয়া যায়। কী জানেন সেগুলি?
কথিত উলুধ্বনিতে আমাদের আশপাশের পরিবেশ পবিত্র হয়ে ওঠে। এর ফলে বাড়ি থেকে সমস্ত অশুভ শক্তি দূরে সরে যায়। এমনকি উলুধ্বনি অশুভ শক্তি নাশ করে শুভ শক্তিকে বাড়িতে প্রবেশ করতে সাহায্য করে বলেও বিশ্বাস। আবার অনেকে বলেন উলুধ্বনি বাতাসে যে কম্পন সৃষ্টি করে তাতে নাকি পরিবেশ জীবাণুমুক্ত হয়।
কিন্তু এতো গেল উলুধ্বনির উপকারীতা। তবে আমরা সচরাচর মা-কাকিমাদেরই উলুধ্বনি দিতে দেখে এসেছি। এই বিষয়ে পুরুষদের খুব একটা আধিপত্য চোখে পড়ে না। তবে তার কারণ জানেন?ছেলেরা কেন উলুধ্বনি দেয় না? এই প্রশ্ন অনেকেরই। এর মূল কারণ উলুধ্বনি শাস্ত্র মতে এক ধরনের স্ত্রী-আচার বলেই পরিচিত। তাই মহিলারাই এই আচারটি পালন করে থাকেন। এ ছাড়া, মেয়েদের একসঙ্গে দেওয়া উলুধ্বনিতেই দেবতারা বেশি সন্তুষ্ট হন বলে কথিত।
আবার অনেকে মনে করেন মেয়েদের উলুধ্বনি দেওয়ার বিশেষ একটি কারণও আছে। উলুধ্বনি দেওয়ার ফলে মেয়েদের পেট সঙ্কুচিত হয়। এর ফলে নাকি নানা প্রকার স্ত্রী-রোগ নির্মূল হয়।
কুমারিকা তন্ত্রে’ অষ্টম অধ্যায়ে স্পষ্ট বর্ণিত রয়েছে উলু ধ্বনি মেয়েরাই করতে পারেন। ছেলেরা উলুধ্বনি করলে তারা নির্বংশ হয়।কথিত একবার দেবতাদের স্তবে খুশি হয়ে দেবী চামুন্ডা শুম্ভ ও নিশুম্ভকে সংহার করে ডাকিনী, যোগিনী ও পিশাচিনী সহ উলু ধ্বনি দিয়ে তান্ডব নৃত্য করে বেড়ান যুদ্ধক্ষেত্রে। এটি মূলত দেবীর উল্লাস বা হর্ষধ্বনি। সেই বিজয়গাথাকে স্মরণ করতেও উলু দেয়া হয়। যেহেতু এটি দেবী উপাচার তাই এটির উপরে মেয়েদের অধিকার স্বতঃসিদ্ধ।