বাংলাদেশে মিথিলার গাড়ি থামিয়ে ৩ বার তল্লাশি, কাকে খুঁজছে উন্মত্ত জনতা? – Bengali News | This is what rafiath rashid Mithila has posted in her social media on the current condition of Bangladesh
বাংলাদেশে পরিস্থিতি উত্তাল। চারিদিকে চলছে ছুটোছুটি, লুটপাট। একদিকে ‘স্বাধীনতা’ পেয়ে উদ্বেল অসংখ্য বাংলাদেশী। অন্যদিকে গাড়ি থামিয়ে চলছে তল্লাশিও। কীসের তল্লাশি? খোঁজা হচ্ছে গাড়িতে ‘আওয়ামি লিগ’ -এর সদস্যকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না। সেরকমই এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন ওদেশের অভিনেত্রী-গায়িকা রাফিয়াত রাশিদ মিথিলা।
কন্যা আইরাকে নিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশেই আছেন মিথিলা। তাঁর আরও এক পরিচয়, তিনি এপারের বাঙালি পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী। মিনিট খানেক আগে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন মিথিলা। বাংলাদেশের উত্তাল পরিস্থিতির ভয়বাহতার কথা উল্লেখ করেছেন সেই পোস্টে। জানিয়েছেন, ঠিক কীসের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।
মিথিলা লিখেছেন, “বাড়ি ফিরছিলাম। কয়েকজন অল্প বয়সি যুবক দু’বার আমার গাড়ি থামিয়েছে। ট্রাঙ্ক খুলতে বলেছে। তৃতীয়বারে জন্য যখন একই কাজ করতে বলে তারা, আমি কারণ জিজ্ঞেস করি। বিশ্রীভাবে বলে, তারা নাকি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দেখছে আওয়ামি লিগের কাউকে লুকিয়ে রেখেছি কি না। এটা কিন্তু খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। আমরা দেশে নৈরাজ্য চাই না। লুটপাটকে সমর্থন করি না। এটা বিধ্বংসী মনোভাব। আমাদের দেশের ছাত্ররা কিন্তু এটার জন্য লড়াই করেনি। আমরা সুরক্ষা ও শান্তি চাই।”
এই খবরটিও পড়ুন
বেশ কয়েকদিন ধরে চলতে থাকা বেনজির প্রতিবাদ আন্দোলন সোমবার চরম আকার ধারণ করলে দেশ ছেড়েন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। ভারত হয়ে যেতে পারেন লন্ডনে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গড়ছে সেখানকার সেনাবাহিনী। হাসিনা দেশ ছাড়ার পর বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের মূর্তি ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়েছে। হাসিনার বাড়িতেও লুটপাট চলছে। শাড়ি থেকে শুরু করে আসবাবপত্র, পোষ্য প্রাণী সবই লুট করা হচ্ছে।
কলকাতায় মিথিলার স্বামী পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। টিভি নাইন বাংলা ডিজিটালকে তিনি আগেই বলেছেন, “বিগত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত। আমি তো এই নিয়ে ফেসবুকে লিখেওছিলাম– নিরস্ত্র ছাত্রছাত্রীদের উপর গুলি চালানো বর্বরতার নিদর্শন। যে ছাত্রছাত্রীরা মারা গিয়েছেন তাঁরা তো সরকার-বিরোধী আন্দোলনে নামেনি প্রথমে। তাঁদের দাবি ছিল একেবারেই অন্য। তবে যা ঘটেছে কয়েক দিন ধরে আজ তারই প্রতিফলন ঘটল মাত্র। কারণ, দিনের শেষে মানুষই কথা বলে। ইতিহাস সাক্ষী, মানুষেরই জয় হয়। আর এ ক্ষেত্রেও তাই-ই হয়েছে। ইতিমধ্যেই এত হিংসে ছড়িয়েছে, এত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাই যা দরকার তা হল শান্তি। বাংলাদেশের দায়িত্ব যার হাতেই বর্তাক না কেন, যেন সেটি বজায় থাকে, এটাই চাইব।”
বাংলাদেশের এই উত্তাল পরিস্থিতিতে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে কথা হয়েছে সৃজিতের। তিনি আগেই জানিয়েছেন, মিথিলা ও আইরা নিরাপদেই আছেন।