সিরিয়ালের সফল ‘মা’-এর ‘মা’ ডাক শোনা হল না, অপরাজিতা বললেন… – Bengali News | This is what bengali actress aparajita adhyay said about her motherhood and mother roles she plays on screen
এক শিশুকে পরম আদরে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য।
স্নেহা সেনগুপ্ত
মাদার্স ডে আসতে এখনও ঢের দেরি। ২০২৪ সালের মাদার্স ডে ১২ই মে। চাইলে এই মায়ের কথা সে দিনও ফলাও করে প্রতিবেদনে প্রকাশিত হতে পারে। কিন্তু না, তা কেন? মায়েদের জন্য় বছরে একটা দিন কেন ধার্য থাকবে? মায়েদের কথা হোক সব সময়। সারা বছর। সারাক্ষণ। তাই এই মাকে কুর্নিশ জানিয়ে আজকের প্রতিবেদন। তিনি অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। এই মুহূর্তে একের পর এক মায়ের চরিত্র সাফল্যের সঙ্গে ফুটিয়ে তুলছেন সিরিয়ালের পর্দায়। সে ‘চিনি’র মিষ্টি হোক, ‘একান্নবর্তী’র মালিনী, ‘লক্ষ্মীকাকিমা সুপারস্টার’-এর লক্ষ্মী কিংবা ‘জল থৈ থৈ ভালবাসা’র কোজাগরী। অপরাজিতার বিয়ে হয়েছে আড়াই দশক (২৫ বছর) আগে। সন্তানের জন্ম দেননি তিনি। তা-ও এককন্যার মধ্যে নিজের সন্তানকে পেয়েছেন খুঁজে। শুটিং থেকে ফিরে ডিনার সেরে অনেক রাতেই জীবনের কিছু না-বলা কথা অকপট শেয়ার করলেন অপরাজিতা। শুনল TV9 বাংলা।
এই খবরটিও পড়ুন
TV9 বাংলা: সিনেমার কথা যদি হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ‘চিনি’, ‘একান্নবর্তী’; আর সিরিয়ালের কথা যদি হয়, ‘লক্ষ্মীকাকিমা সুপারস্টার’, ‘জল থৈ থৈ ভালবাসা’… সবেতেই আপনাকে মায়ের চরিত্রে দেখা গিয়েছে এবং যাচ্ছেও… অপারজিতা আঢ্যকে কি তা হলে মায়ের চরিত্র ছাড়া অন্য কোনও চরিত্রে আর দেখা যাবে না? যদিও ২০ বছর বয়সের পর থেকেই আপনি মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন…
অপরাজিতা: ঠিকই বলেছেন, আমি কিন্তু ২৩ বছর বয়স থেকেই মায়ের চরিত্রে অভিনয় করি। আমার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে তখন রিজ়ার্ভেশন ছিল না, এখনও নেই। ‘এক আকাশের নীচে’ সিরিয়ালে আমাকে প্রথম মায়ের চরিত্রে কাস্ট করা হয়েছিল। অরিত্রর মায়ের চরিত্রটা আমি করেছিলাম। সে ছিল আমার ছেলের ভূমিকায়। সেই অরিত্র এখন কত্তবড় হয়ে গিয়েছে। আমি চিরকালই ভাল অভিনয় করতে চাই। মা হলাম, না কাকিমা, তাতে আমার কিছু এসে যায়নি কোনওকালেই। ওই যে আগেই বললাম, আমার কোনও রিজ়ার্ভেশন নেই। ভাল অভিনেত্রীদের এই ধরনের কোনও ট্যাবু্ থাকতে নেই।
TV9 বাংলা: ২২ বছর বয়সে মায়ের চরিত্রটা যখন বেছে নিলেন ‘এক আকাশে নীচ’-এর জন্য, চারপাশের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
অপরাজিতা: সব্বাই সতর্ক করেছিল আমাকে। বলেছিল, এত কম বয়সে মায়ের চরিত্র বেছে নেওয়া ঠিক না। আমি কারও কথা শুনিনি এবং সেই চরিত্রটা আজও মাইলস্টোন। তারপর আমি যত সিরিয়ালেই অভিনয় করি না কেন, সেটা ‘গানের ওপারে’ হোক কিংবা ‘কুরুক্ষেত্র’, তাতে সবেতেই আমি কারও না কারও মা। আমি মনে করি মনুষ্য সমাজে সবচেয়ে বড় হিরো-র রোল প্লে করেন এক মা। সেটা সমাজের ক্ষেত্রে, সংসারের ক্ষেত্রে, সব ক্ষেত্রে। তাই আমি মনে করি আমি হিরো-র রোল-ই করি।
TV9 বাংলা: এত ধরনের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, সবচেয়ে কোন মাকে নিজের কাছের বলে মনে হয়েছে?
অপরাজিতা: ওরকম করে তো আলাদা করা যায় না। সবগুলোই তো ভাল। কোনটাকে বাদ দিয়ে বলি বলুন তো? নিজের সন্তানের মতো তো সবক’টা।
TV9 বাংলা: আমার একটা প্রিয় আছে।
অপরাজিতা: কোনটা? কোনটা?
TV9 বাংলা: ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে পুপের (অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর প্রথম অভিনীত চরিত্র) মা…
অপরাজিতা: পুপের মা, ইয়েস! ওটাও একটা মাইলস্টোন। ঋতুর (জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ) লেখনীতে দারুণ একটা কাজ। কেন আরও আছে, ‘মা’ ধারাবাহিকে ঝিলিকের ‘মা’… সেই সিরিয়ালে কুড়িয়ে পাওয়া সন্তানের মা ছিলাম তো।
TV9 বাংলা: আপনার নিজের জন্মবৃত্তান্ত সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে… আপনার জন্মদাত্রী মা বিদুষী, অনেকবারই সেই গল্প আপনার মুখে শুনেছি…
অপরাজিতা: আমার মা আক্ষরিক অর্থেই বিদুষী। সেই সময় দাঁড়িয়ে এমএ পাশ। স্কুলের শিক্ষিকা। মা আমাকে অদ্ভুতভাবে জন্ম দিয়েছিলেন। আমি মায়ের পেট থেকে হাসপাতালে ছিটকে পড়ে যাই। সেভাবেই আমার জন্ম হয়। সেই জন্যই আমার নাম অপরাজিতা। আর আমার মা সাংঘাতিক পাওয়ারফুল ব্যক্তিত্ব। তাঁকে সকলে লেডি হিটলার বলতেন। শেষদিন পর্যন্ত নিজের শর্তেই বেঁচেছেন তিনি। যা চাইতেন, সেটা করিয়েই নিতেন সকলকে দিয়ে। কোনওদিনও কারও কথা শুনতেন না। ভাবতেন, তাঁর শর্তে সকলে চলবেন…
TV9 বাংলা: আপনার অভিনীত ‘জল থৈ থৈ ভালবাসা’র কোজাগরীর সঙ্গে খুবই মিল পাচ্ছি…
অপরাজিতা: ভীষণই মিল। ‘চিনি’ ছবির মিষ্টির সঙ্গেও আমার মায়ের খুব মিল (মিষ্টি এবং কোজাগরী দু’টিই অপরাজিতা আঢ্য অভিনীত দু’টি মায়ের চরিত্র)।
TV9 বাংলা: চিত্রনাট্যকারদের এই রেফারেন্সগুলো দিয়েছিলেন?
অপরাজিতা: লীনাদি (‘জল থৈ থৈ ভালবাসা’র লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্য়ায়) সবটাই জানেন। এত বছর কাজ করার সৌজন্যে আমার সম্পর্কে তাঁর অজানা কিছুই বাকি নেই। মৈনাকের (‘চিনি’ ছবির পরিচালক মৈনাক ভৌমিক) ক্ষেত্রে আমার অদ্ভুত instinct কাজ করে। আমরা অনেককিছু আলোচনা করে নিই…
TV9 বাংলা: মৈনাক তো নিজের মাকে খুবই ভয় পান…
অপরাজিতা: হ্যাঁ, খুবই ভয় পান।
TV9 বাংলা: এত মায়ের চরিত্রে অভিনয় করলেন, কিন্তু ব্যক্তি জীবনে তো নিজের জন্ম দেওয়া সন্তানের মুখে ‘মা’ ডাক শোনা হল না…
অপরাজিতা: ছোটবেলা থেকেই এটা আমার কাছে খুব একটা বড় জায়গা রাখে না। আমি বিশ্বাস করি না, যে সকলকে biological mother (জন্মদাত্রী মা) হতেই হবে। আমার মনে হয়, মাতৃত্ব অনেক বৃহৎ জিনিস। কেবলমাত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে মাতৃত্ব প্রমাণ করা যায় না। মাতৃত্বের অনেক দিক আছে। আমি মনে করি বাবারাও অনেক ভাল ‘মা’ হতে পারেন। আমারও তো মেয়ে আছে। সে আমাকে ‘মা’ বলে ডাকে। কেবল সে নয়, অনেকেই আমাকে ‘মা’ বলে ডাকে। তাই জীবনে কোনও ঘাটতি নেই। যাঁদের আমি সন্তানসম স্নেহ করি, প্রত্যেকে আমাকে ‘মা’ বলেই ডাকে। সুতরাং, ‘মা’ ডাকের অভাব আমার কাছে নেই।
TV9 বাংলা: আপনার সেই কন্যা সম্পর্কে তো কিছুই জানে না লোকে, যে আপনাকে ‘মা’ বলে ডাকে…
অপরাজিতা: আমাকে তো অনেকেই ‘মা’ বলে ডাকে, কিন্তু যে সবচেয়ে কাছের মেয়ে, তার নাম গার্গী। সে আমাকে ‘মা’ এবং আমার স্বামী অতনু (অতনু হাজরা)-কে ‘বাবা’ বলে ডাকে। আজ যদি আমার biological সন্তানও থাকত, তা হলেও সে কোনওদিন বোধহয় গার্গী হয়ে উঠতে পারত না। আমার স্বামী মাঝে ১০ দিন হাসপাতালে ছিলেন, গার্গী কিন্তু টানা হাসপাতালে ছিল। ওহ্… আচ্ছা বলি, আমার মেয়ে কিন্তু ব্যাঙ্কার। দারুণ পোস্ট চাকরি করে।
TV9 বাংলা: গার্গীর সঙ্গে আলাপ কোথায়?
অপরাজিতা: গার্গী আমার বাপের বাড়ির পাড়ার মেয়ে।
TV9 বাংলা: ওর নিজের বাবা-মা নেই?
অপরাজিতা: তাঁরাও আছেন সক্কলে।
TV9 বাংলা: মায়ের সংজ্ঞা কী তা হলে আপনার কাছে?
অপরাজিতা: মা একটা instinct। সেটা একটি উদযাপন। অনেক মেয়েদেরই বায়োলজিক্যাল সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে কি তিনি মা নন? কিংবা কোনও পুরুষ কি বাবা হতে পারেন না?
(*উল্লেখ্য বিষয়: প্রতিবেদনের প্রধান ছবিতে যে বাচ্চাটিকে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নাম ডুগডুগি। সে অপরাজিতার গুরুদেবের এক শিষ্যের সন্তান। অপরাজিতাই তাঁর নাম দিয়েছেন ডুগডুগি। ছবিটি পাওয়া গিয়েছে অপরাজিতার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে।)