Sonam Wangchuk: ২১ দিনের অনশন ভঙ্গ করলেন সোনম ওয়াচুক, কারও কানে পৌঁছল তাঁর দাবি? – Bengali News | Sonam Wangchuk ends 21 day fast over Ladakh demands
কী ছিলেন, ২১ দিনের অনশনের পর কী হয়েছেন সোনম ওয়াংচুকImage Credit source: Twitter
লাদাখ: ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমাটার কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। সেই সিনেমার র়্যাঞ্চো চরিত্রটির অনুপ্রেরণা ছিলেন লাদাখের বিশিষ্ট জলবায়ু কর্মী তথা শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার সময়, দারুণ হইচই হয়েছিল তাঁকে নিয়ে। এই সোনম ওয়াংচুকই গত ২১ দিন ধরে দিন কাটালেন শুধুমাত্র একটু নুন আর জল খেয়ে। লাদাখের রাজ্যে মর্যাদা ফেরাতে এবং হিমালয়ের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষার দাবিতে প্রায় সকলের অগোচরে অনশন করছিলেন তিনি। ক্রমে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছিল। তবে, কেন্দ্র তাঁর কথা কানে তোলেনি। অবশেষে তাঁর প্রাণ সংশয় হওয়ার উপক্রম হওয়ায় অনেকেই তাঁকে অনশন ভঙ্গ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার (২৬ মার্চ), সেই পরামর্শই গ্রহণ করলেন তিনি। এদিন অনশন ভঙ্গ করলেন তিনি। তবে, তিনি জানিয়েছেন, যে দাবি নিয়ে তিনি এতদিন অনশন করছিলেন, সেই দাবিগুলি আদায়ে লড়াই জারি রাখবেন তিনি। অনশন ভঙ্গের সময় তিনি বলেছেন, “আমি লাদাখ এবং লাদাখের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।”
২০১৯ সালের ৫ অগস্ট, পূর্ববর্তী জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য ভেঙে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ – এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করেছিল কেন্দ্র। অদূর ভবিষ্যতেই জম্মু ও কাশ্মীরকে ফের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে, রাজ্যে ভোট করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। লাদাখ অবশ্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই থাকবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। এদিন, সোনম ওয়াচুকের অনশন ভঙ্গকে কেন্দ্র করে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। ওয়াচুকের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন তাঁরা। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মহিলা সংগঠনগুলি জানিয়েছে, এখন তারাও একই দাবিতে অনশন শুরু করবে।
আমির খান অভিনয় করেছিলেন সোনম অনুপ্রাণিত ব়্যাঞ্চোর চরিত্রে
কীসের দাবিতে অনশন করছিলেন সোনম?
ওয়াংচুক দাবি জানিয়েছেন, লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে দেশের উপজাতীয় অঞ্চলগুলিতে জমির সুরক্ষা এবং নামমাত্র স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই তফসিলের আওতাধীন এলাকাগুলিতে উপজাতীয় মানুষ ছাড়া কেউ জমি কিনতে পারে না। লেহ এবং কার্গিল জেলার জন্য পৃথক পৃথক লোকসভা আসন চেয়েছেন তিনি। জমি এবং চাকরির একচেটিয়া অধিকার এবং একটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি বর্তমান কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের অধীনে লাদাখে ‘শিল্প শোষণ’ চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। অবৈজ্ঞানিকভাবে শিল্প স্থাপনের কারণে, লাদাখের বাস্তুতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।