‘অনুপমকে বিরক্ত করতে চাই না’, বাংলাদেশ থেকে বললেন গায়কের ‘একতরফা প্রেমিকা’ – Bengali News | Meet the once sided lover of anupam roy from bangladesh and here is how much she is in love with the singer
প্রতিবেদক: স্নেহা সেনগুপ্ত
কোনওদিনও একবারের জন্যেও দেখা হয়নি। কথাও হয়নি কোনওদিন। ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে যেখানে গোটা বিশ্ব ‘কানেক্টেড’, সেখানে প্রিয়তমকে কোনওদিন একটি টেক্সট মেসেজও করেননি। ১৫ বছর ধরে একতরফা ভালবেসে গিয়েছেন—নিঃস্বার্থ সেই আবেগ। তিনি গায়ক এবং সঙ্গীত পরিচালক অনুপম রায়ের ‘একতরফা প্রেমিকা’ (TV9 বাংলার সঙ্গে কথোপকথনকালে এই শব্দদ্বয় ব্যবহার করেছেন তিনি)। বাসস্থান: বাংলাদেশ। নাম: মোহনা জাহ্নবী। বয়স: ৩০ বছর। ২ মার্চ কলকাতার গায়িকা প্রশ্মিতা পালকে বিয়ে করবেন অনুপম (এই নিয়ে তৃতীয়বার করতে চলেছেন গায়ক)। ১৫ বছর ধরে সুদূর বাংলাদেশ থেকে সবই দেখেছেন মোহনা জাহ্নবী। অনুপমের সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তীর বিচ্ছেদ, হবু স্ত্রী প্রশ্মিতার অনুপমের জীবনে আগমন… স-অ-অ-অ-ব। লিখে গিয়েছেন একের পর এক খোলা চিঠি—সোশ্যাল মিডিয়ায়। সবগুলোই অনুপমের উদ্দেশে। নির্দ্বিধায় লিখতে পেরেছেন, “অনুপমের জীবনে নতুন কেউ এসেছে, আমি ওর পালস্ বুঝি…” আচ্ছা, কাউকে না স্পর্শ করে তাঁর স্পন্দন (পালস) বোঝা যায়? হয়তো যায়। সেই উত্তর মোহনাই দিতে পারবেন।
এই খবরটিও পড়ুন
উল্টো দিকে, অনুপমের কাছে তিনি কেবলই এক ভক্ত। তাতে কোনও গ্লানি নেই মোহনার। কাউকে ভালবাসলে যে প্রত্যাশাহীন থাকতে হয়, তা তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছে জীবনের ৩০টা বসন্ত। প্রশ্মিতা পালকে বিয়ে করছেন অনুপম। মনে যদিও বা কষ্ট থেকে থাকে, হাসি মুখে মেনে নিয়েছেন সেই আপডেট। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের কর্মী হওয়ার সুবাদে সেই খবর বুকে পাথর চেপে লিখেওছেন। খোলা চিঠিতে মোহনার কথাগুলো, “অফিসে যখন দুপুরের খাবার খেতে বসেছি, তখনই সিনিয়র বিনোদন সাংবাদিকের কাছ থেকে তোমার বিয়ের খবর পেলাম। বরফ জমা সমুদ্রের মতো অনুভূতি নিয়ে লাঞ্চ সেরে তোমার বিয়ের নিউজ়টা অনলাইনে তুলে দিলাম। কাল পত্রিকায় প্রকাশিত হবে। এমন গরম খবর তাড়াতাড়ি প্রকাশ না করলে কী চলে বলো! সাংবাদিকদের কাছে এটা শুধুই খবর, হট টপিক। আমার কাছে কী, তা যদি কেউ বুঝত। এক সংবাদ পাঠিকা তাঁর জীবনসঙ্গীর মৃত্যুর খবর নিজে পাঠ করেছিল। আর আমি তোমার বিয়ের নিউজ় তুললাম আমাদের পত্রিকায়। প্রফেশনাল লাইফের নিষ্ঠুরতা অন্যরকম সুন্দর। তোমার নিউজ়ের সঙ্গে আমার নামটা যে জুড়ে থাকল, সেটুকুই বা কম কীসে বলো। কালকের পেপার কাটিংটাও রেখে দেব সযত্নে।”
২ মার্চ রেজিস্ট্রির পাতায় যখন প্রশ্মিতা পালকে বিয়ে করবেন অনুপম, বাংলাদেশের সেই সংবাদ মাধ্যমের অফিসে বসে সেই খবরটাও লিখতে হবে মোহনাকে। সেই যন্ত্রণার বর্ণনা দেবেন হাসি মুখে। বাংলাদেশী মোহনার সঙ্গে কলকাতা থেকে যোগাযোগ করল TV9 বাংলা ডিজিটাল। রইল ওপারের একাকী অনুপমের ‘একতরফা প্রেমিকা’র সঙ্গে কথোপকথন…
TV9 বাংলা: অনুপমের সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত আলাপ আছে?
মোহনা জাহ্নবী: আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। গায়ক অনুপম রায় হিসেবেই তাঁকে আমি চিনি। যখন তিনি ‘শেষ ট্রেনে ঘরে ফিরব না’ গানটা গেয়েছিলেন, তখন থেকেই চিনি।

TV9 বাংলা: সেটা কি অনুপমের কারণেই?
মোহনা জাহ্নবী: না, না। ব্যাপারটা সেরকম নয়। আমি এমনিতেই অবিবাহিত। ইচ্ছা করেই বিয়ে করিনি।
TV9 বাংলা: অনুপমকে লেখা আপনার খোলা চিঠিগুলিতে বারবারই শর্তহীন ভালবাসার কথা উঠে এসেছে। একরতরফা প্রেমের কথা। যে প্রেমের কথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে গিয়েছেন তাঁর গানে, ‘তুমি আরও কারে যদি চাহো, যদি আরও ফিরে নাহি আসো, তবে তুমি যাহা পাও, তাই যেন পাও…’
মোহনা জাহ্নবী: আমি অনুপমকে শুভ কামনাই জানিয়েছি। ১৫ বছর থেকে তাঁকে আমি ভালবেসেছি মনে-মনে। শুরু থেকেই তাঁকে আমার খুব ভাল লাগে। তাঁকে আমি অনেকগুলো চিঠি লিখেছি।
TV9 বাংলা: চিঠির উত্তর পেয়েছিলেন কখনও?
মোহনা জাহ্নবী: পেয়েছি তো। গত বছর মার্চ মাসে অনুপম বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর আমি তাঁকে একটা চিঠি লিখেছিলাম। সেই চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন কমেন্ট বক্সে।
TV9 বাংলা: কী লিখেছিলেন?
মোহনা জাহ্নবী: লিখেছিলেন, “নিশ্চয়ই দেখা হবে…”
TV9 বাংলা: তাই…?
মোহনা জাহ্নবী: সেই চিঠিতে আমি দেখা করার আকুলতা প্রকাশ করেছিলাম।
TV9 বাংলা: এই ১৫ বছরে একবারের জন্যেও দেখা হল না?
মোহনা জাহ্নবী: সুযোগ হয়েছে কয়েকবারই। বাংলাদেশেই তো কয়েকবার তিনি এসেছেন। আমি নিজে সংবাদমাধ্যমের কর্মী। সুযোগও এসেছে দেখা করার। প্রাইভেট অনুষ্ঠানেও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আমাকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আমি যাইনি।
TV9 বাংলা: কেন যাননি, সুযোগ তো ছিল?
মোহনা জাহ্নবী: আমি অত লোকের মাঝে অনুপমের সঙ্গে দেখা করতে চাইনি। আমি দেখা করতে চেয়েছি একান্তভাবে, আলাদাভাবে। যেখানে আমি এবং অনুপম ছাড়া আর কেউ থাকবে না। সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি আমি।

TV9 বাংলা: কী সেই পরিকল্পনা?
মোহনা জাহ্নবী: আমি অনেকগুলো চিঠি লিখেছি। সেই চিঠিগুলো নিয়ে দেড় দুই বছরের ভিতর একটা চিঠির বই এবং একটি উপন্যাসের বই লিখব। সব কিছুই তো একতরফা। আমি তো ওকে পেতে যাচ্ছি না। ওর সংসারে কোনও ঝামেলা হোক, সেটাও আমি চাইছি না। আমার কাছে পুরো বিষয়টাই একতরফা। কাউকে ভালবাসলে সেখানে শ্রদ্ধা থাকতে হয়, তাঁর জীবনে যাতে সমস্যা না হয়, সেই ব্যাপারটার দিকেও নজর রাখতে হয়। অনুপমের মতো একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের জীবনে আমার কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হোক, সেটা আমি এক্কেবারেই চাইছি না।
TV9 বাংলা: আপনাকে নিয়ে, অনুপমকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক কথাও বলা হয়েছে…
মোহনা জাহ্নবী: হয়েছে জানি… কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি সেটা চাইনি। এই নেতিবাচকতা আমি চাই না। আমাকে নিয়ে যদি খারাপ কথা লেখাও হয়, তার চেয়ে বেশি কষ্ট হবে যদি অনুপমকে নিয়ে খারাপ কিছু লেখা হয়…
TV9 বাংলা: অনুপম আপনাকে ভক্ত মনে করছেন। আপনি কি শুধুই তাই?
মোহনা জাহ্নবী: অনেক তারকাকেই তো ভাল লাগে আমাদের। আমারও লাগে। কিন্তু অনুপমের প্রতি আমার অনুভূতি অন্যরকম।
TV9 বাংলা: এটাকে প্রেম বলা ঠিক হবে?
মোহনা জাহ্নবী: (লাজুক মৃদু হাসি এবং দীর্ঘ নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যায়। কিছুটা থমকেও যান) সেটা বলতে পারেন।
TV9 বাংলা: আপনি কি তাহলে অনুপমের একতরফা প্রেমিকা?
মোহনা জাহ্নবী: হ্যাঁ। আমি অনুপমের একতরফা প্রেমিকা। আমাদের তো দেখা, কথা কোনওটাই হয়নি। আমাকে ঠিক করে চেনেনও না তিনি। আমার কাছে অনুপমের ফোন নম্বরও নেই। আমি কোনওদিনও তাঁকে রিচ আউট (পড়ুন যোগাযোগ) করার চেষ্টাও করিনি। আমি অনুপমকে বিরক্তই করতে চাই না।
TV9 বাংলা: আপনার নামে একটা গান আছে অনুপমের ‘মোহনা…’, শুনেছেন…?
মোহনা জাহ্নবী: আছে তো। জানি। আমার নামে গান। যদিও সেটা আমার জন্য না, কিন্তু এই নামে একটা গান ও লিখেছে। বিষয়টা আমার খুবই ভাল লাগে।
TV9 বাংলা: ‘বাংলাদেশের মেয়ে’ নামেও একটা গান আছে অনুপমের…
মোহনা জাহ্নবী: অনেকে বলে ওই গানটা অনুপম আমার জন্য নাকি লিখেছেন। তবে যে গান থেকে ওকে আমার চেনা, ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও… শেষ ট্রেনে ঘরে ফিরব না’—সেই চেনা, ওকে নিজের মতো করে পাওয়া, একটা অন্য রকমের আবেদন রাখে… আমার একটা বইও আছে ‘শেষ ট্রেনে ঘরে ফিরব না’ নামে। সেই বইটার শিরোনামে আমি ওই গানই রেখেছি।
TV9 বাংলা: আশা করি অনুপমের সঙ্গে শীঘ্রই দেখা হবে আপনার…
মোহনা জাহ্নবী: হ্যাঁ। ধন্যবাদ। তাই-ই যেন হয় কোনওদিন। মৃত্যুর আগে মানুষটাকে একবার প্রণাম করে যেতে চাই। একবার একান্ত একটা মুহূর্ত কাটাতে চাই।