২০০ বছর পরে বংশে কন্যাসন্তানের জন্ম, ঢোল বাজিয়ে রথে চাপিয়ে ‘লক্ষ্মী’ এল ঘরে
রাস্তার মাঝে ঢোল বাজছে। নাগাড়া বাজছে। তার তালে তালে নাচছে দহিফলে পরিবার। পিছনে একটা সাত ঘোড়ায় টানা রথ। ঘোড়াগুলো নকল। তবে রথটা বিশাল। সেখানে সদ্যোজাতকে কোলে নিয়ে হাসিমুখে বসে আছেন এক তরুণী। গলায় মালা। ২০০ বছর পরে মহারাষ্ট্রের বীড়ে জেলার দহিফলে পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। আনন্দ দেখে কে!
নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘গার্গী’। বৈদিক যুগের দার্শনিকের নামে। নাতনিকে নিয়ে আবেগপ্রবণ দাদু লিম্বাজি দাহিফালে। তিনি বললেন, ‘পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম হওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। এত বছর ধরে আমাদের আক্ষেপ ছিল। পরিবারে কোনও মেয়ে হয়নি। আজ সেই আক্ষেপ পূরণ হয়েছে।’ তাঁর দাবি, প্রায় ২০০ বছর কন্যাসন্তানের মুখ দেখেনি তাঁর পরিবার।
গত ২৪ অগস্ট জন্ম হয়েছে গার্গীর। তিন দিন পরে ঢোল, নাকাড়া বাজিয়ে রথে চাপিয়ে মা আর গার্গীকে নিয়ে আসা হয়েছে বাড়ি। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। চার প্রজন্ম পরে নাতনির জন্মের আনন্দই আলাদা লিম্বাজির কাছে। পুত্রবধূরাও তাঁর মেয়ের মতো। লিম্বাজির কথায়, ‘আমার দুই পুত্রবধূ। দু’জনকেই মেয়ের মতো দেখি।’
গার্গীর ঠাকুমা সুরেখা দহিফলেরও আনন্দ ধরছে না। হাসপাতালেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, নবজাতককে ধুমধাম করে বাড়িতে নিয়ে আসবেন। তাঁর কথায়, ‘আজ আমাদের ঘরে লক্ষ্মী এসেছে। আমরা খুব খুশি।’ গার্গীর বাবা হৃষিকেশ দহিফলে পেশায় ফার্মাসিস্ট। তিনি লাজুক মুখে বললেন, ‘সবাই চায় ছেলে হোক। আমি কিন্তু প্রথম থেকেই একটা মেয়ে চেয়েছিলাম।’ মেয়ে আর বাবার সম্পর্ক অন্য রকম বলেই মনে করেন তিনি।
WATCH: A girl child born into Beed’s Dahiphale family has brought extraordinary joy after relatives said no girl had been born in the family for nearly 200 years. The newborn was taken home from hospital in a decorated chariot amid drums, fireworks and sweets. pic.twitter.com/aBDNlYA9Df
— Varad Bhatkhande | Journalist (@VaradBhatkhande) September 2, 2026
দহিফলে পরিবারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সমাজকর্মী অনন্ত ইংলে। তাঁর কথায়, ‘সমাজে এখনও কন্যাসন্তানের জন্ম নিয়ে সংকীর্ণতা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গার্গীর জন্মকে এ ভাবে উদযাপন করে সমাজের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিল দাহিফালে পরিবার।’