Kolkata Municipal Corporation: ‘ভাষা আন্দোলন’-র প্রথম ধাপ? এবার বাংলা বাধ্যতামূলক কলকাতা পৌরনিগমের অধিবেশনে – Bengali News | Kolkata Municipal Corporation asks all councillors to talk in Bengali in KMC session
কলকাতা: তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা আন্দোলনের ডাকের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা পৌরনিগমের। পৌরনিগমের অধিবেশন বা কোনও কার্যবিবরণী সভায় ইংরেজি কিংবা হিন্দিতে প্রশ্ন করা যাবে না। কোনও কাউন্সিলর হিন্দি কিংবা ইংরেজিতে কোনও প্রশ্ন করতে পারবেন না। এই নির্দেশ দিলেন কলকাতা পৌরনিগমের চেয়ারপার্সন মালা রায়। বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার এবং গুরুত্ব দিতে এই নির্দেশ বলে জানা গিয়েছে।
বাংলাভাষীদের ভিনরাজ্যে হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল। বাঙালি অস্মিতাকে হাতিয়ার করে ২৭ জুলাই থেকে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের শহিদ দিবসের সমাবেশ থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে বাংলায় বক্তৃতা করার কথা জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পৌরনিগমের(KMC) অধিবেশনে বাংলায় প্রশ্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হল কাউন্সিলরদের। যেভাবে বাংলাভাষীদের ভিনরাজ্যে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং বাংলার বিরুদ্ধে আবহ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিবাদস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত বলে জানালেন পৌরনিগমের চেয়ারপার্সন মালা রায়।
তিনি বলেন, “এমনিতেই আমাদের পৌরনিগমের অধিবেশনে বেশিরভাগ বাংলাতেই প্রশ্ন হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাউন্সিলররা হিন্দি ও ইংরেজিতে প্রশ্ন করেন। সবাই যাতে বাংলায় প্রশ্ন করেন, সেজন্য এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেয়র পারিষদরাও বাংলাতে উত্তর দেবেন।”
পৌরনিগমে এমনও কাউন্সিলর রয়েছেন, যাঁরা জন্মসূত্রে বাঙালি নন। তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে? এই নিয়ে মালা রায় বলেন, “যাঁরা দীর্ঘদিন কলকাতা কিংবা বাংলায় রয়েছেন, তাঁরা বাংলা বোঝেন। কারণ, তাঁদের ভোটারদের কথা শুনতে হয়। বাংলাটা বলতেও পারেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেকে স্টাইল মেনটেন করেন যে ইংরেজি ছাড়া বলব না। সেসব আর চলবে না। অধিবেশন কক্ষে বাংলা ভাষাটাই তো প্রথম হওয়া উচিত।” কলকাতা পৌরনিগম প্রথম এমন সিদ্ধান্ত নিল জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে বিধানসভাও এই সিদ্ধান্ত নেবে।
এই নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বলেন, “আট হাজার বাংলা মিডিয়াম স্কুল তুলে দিয়ে, ২০ হাজার বাংলা মদের দোকান চালু করে এখন বাংলা-বাঙালিকে সবার উপরে রেখেছেন। আসলে ভাষার নামে রাজ্যকে ভাগ করার চক্রান্ত চলছে। আজকে পৌরনিগমের ক্ষেত্রেও সেটা দেখা যাচ্ছে।” ২০১৮ সালে উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিটে ২ ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভাষাকে ভালবাসতে হলে দাড়িভিটে মৃত দুই যুবকের মূর্তি বানান। কারণ, তাঁরা ভাষা আন্দোলনের শহিদ।”
